সংস্থাটি জানিয়েছে, সরকারি অনুমোদন এবং চুক্তির নিয়মবহির্ভূত কোনো অর্থ এ প্রকল্পে ব্যয় করা হয়নি। প্রকাশিত সংবাদগুলোতে খণ্ডিত, প্রেক্ষাপটবিহীন ও ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে জনমনে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
আজ (শনিবার, ২৫ জুলাই) বেবিচকের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিক জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, থার্ড টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রায় দুই বছর পূর্বে সম্পন্ন হলেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিভিন্ন কারিগরি, অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হয়েছে।
বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এসব প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে থার্ড টার্মিনালের অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার দেশের অন্যতম বৃহৎ এই জাতীয় অবকাঠামোর ভাবমূর্তি, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আহরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গণমাধ্যমে অনুমোদন ছাড়া ৩,২০০ কোটি টাকা ব্যয়ের যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য এবং তথ্যের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করে বেবিচক। প্রকৃত তথ্য হলো—প্রকল্পের যেকোনো ব্যয়ের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। অনুমোদন ছাড়া প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের কোনো সুযোগ নেই।
প্রথম সংশোধিত ডিপিপির পর প্রকল্পের প্রয়োজনীয় ভেরিয়েশন কাজ ও আইটেমওয়ারী পরিমাণের সমন্বয় করে ২১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়, যা গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। এইপর্যন্ত প্রকল্পের বিপরীতে ২০ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা অনুমোদিত প্রকল্প ব্যয়ের সীমার মধ্যেই রয়েছে।
গাছ রোপণ ও পুকুর নির্মাণে অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয় যে, আন্তর্জাতিক দরপত্রের আওতায় সম্পাদিত মূল চুক্তির নির্দিষ্ট দর অনুযায়ীই এসব অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।
চুক্তির অন্তর্ভুক্ত ১৪ হাজার ৮২৪টি আইটেমের মধ্যে ঠিকাদার কোনো আইটেমে বেশি এবং কোনোটিতে কম দর উদ্ধৃত করে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হন। উদাহরণ হিসেবে, টানেল নির্মাণে রডের চুক্তিমূল্য পিডব্লিউডি সিডিউল-২০২২ এর বাজারদরের চেয়ে অনেক কম ছিল। ফলে পুরো চুক্তি থেকে একক কোনো আইটেমকে খণ্ডিত আকারে উপস্থাপন করে অনিয়মের অভিযোগ আনার সুযোগ নেই।
একইভাবে কোভিড-১৯ মহামারীর সময় নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করতে অতিরিক্ত জনবল ও সরঞ্জাম মোতায়েন, কম জায়গায় মাটি অপসারণের সুযোগ না থাকায় তা নির্দিষ্ট দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া এবং অন্যান্য কারিগরি উপকরণের ব্যয় আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান NOCD JV (দ্য ইঞ্জিনিয়ার) এবং ঋণদাতা সংস্থা জাইকার FIDIC চুক্তিভিত্তিক গাইডলাইন অনুসারেই অনুমোদিত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে এ সিদ্ধান্ত না নিলে ঠিকাদার বিলম্ব ফি দাবি করতে পারত, যাতে সরকারের আরও বেশি আর্থিক ক্ষতি হতো।
বিভিন্ন সময় অডিট আপত্তি ওঠা প্রসঙ্গে বেবিচক জানায়, প্রকল্পের ১৪,৮২৪টি কাজের আইটেমের বিপরীতে যেকোনো অডিট আপত্তি ওঠার বিষয়টি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং তা অডিট জবাবের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য। তবে অডিট আপত্তির সূত্র ধরে গঠিত অ্যামিকেবল সেটেলমেন্ট কমিটির বিষয়ে যে বিতর্ক তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আন্তর্জাতিক ঠিকাদার প্রথমে ১৮ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা দাবি করেছিল, যা ছিল চুক্তি মূল্যের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় গঠন করা এ কমিটি দর কষাকষি করে দাবির পরিমাণ কমিয়ে ১৬ হাজার ২২৫ কোটি টাকায় নামিয়ে এনেছে। এতে করে অনিয়মকে বৈধতা দেওয়া হয়নি, বরং সরকারের প্রায় ২ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে ধাপে ধাপে ব্যয় বৃদ্ধি কোনো অনিয়মের কারণে হয়নি, বরং আন্তর্জাতিক দরপত্রে প্রাপ্ত দর, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন এবং অনুমোদিত ভেরিয়েশনের কারণেই তা হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় অনুমোদিত বাজেটের মধ্যেই থাকায় পরবর্তীতে কোনো পোস্ট-ফ্যাক্টো বা একনেক অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশের পূর্বে সঠিক তথ্য যাচাই করতে সকল গণমাধ্যমকে আহ্বান জানিয়েছে বেবিচক।





