বরফ গলতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের

যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের পতাকা
যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের পতাকা | ছবি: সংগৃহীত
0

ট্রাম্পের ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কূটনৈতিক গেম খেলেছে পাকিস্তান। সম্প্রতি ট্রাম্পের আয় বিবরণী প্রকাশের পর এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা। গণমাধ্যমটি বলছে, জানুয়ারিতে ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’ সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই বরফ গলতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র- পাকিস্তান দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের।

ইরান যুদ্ধ বন্ধে প্রধান মধ্যস্ততাকারীর ভূমিকা কিংবা নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পকে মনোনয়ন, কূটনৈতিক চ্যানেলে বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের সান্নিধ্য পেতে আগ্রহী পাকিস্তান।

সম্প্রতি ট্রাম্পের আয় বিবরণীতেও ধরা মিলেছে পাকিস্তানের কূটনীতির চাল। আল-জাজিরা বলছে, গেল বছর ট্রাম্পের পারিবারিক ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’ টোকেন বিক্রি থেকে ৫০ কোটি ডলারেরও বেশি আয় করেছে। আর এই ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শুরু থেকেই অংশীদার হিসেবে যুক্ত পাকিস্তান।

জানুয়ারিতে পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয় ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘এসসি ফাইন্যান্সিয়াল টেকনোলজিস’-এর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

আরও পড়ুন:

চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল, আন্তঃসীমান্ত বা ক্রস-বর্ডার লেনদেনের ক্ষেত্রে ডলার-ভিত্তিক স্ট্যাবলকয়েন ইউএসডি ওয়ান ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করা।

স্ট্যাবলকয়েন হলো ডিজিটাল মুদ্রা যা একটি নির্দিষ্ট মূল্যের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এটি ব্যাংক ছাড়াই ইন্টারনেটের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। আর ইউএসডি ওয়ান হলো ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিনান্সিয়ালের সংস্করণ।

তবে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও পাকিস্তানের কয়েকজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, এখন পর্যন্ত ইউএসডি ওয়ান স্ট্যাবলকয়েন ব্যবহারের কোনো পাইলট প্রজেক্ট শুরু হয়নি, কোনো লাইসেন্স ইস্যু করা হয়নি এবং কোনো আনুষ্ঠানিক লেনদেনও সম্পন্ন হয়নি।

কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ক্রিপ্টো ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলাতে শুরু করেছে পাকিস্তান। ট্রাম্পের পরিবারের ব্যবসায়িক অংশীদার হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনিরকে হোয়াইট হাউজে মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা কোনো অ-রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের ক্ষেত্রে বিরল ঘটনা। এমনকি ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

এসএস