ঘটনাবহুল দিন গেল মার্কিন বিচার বিভাগের। চরম নাটকীয়তায় ৪টি মামলার ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। যেগুলোর মধ্যে ৩টিই গেছে ট্রাম্পের বিপক্ষে। একটি পক্ষে গেলেও সেখানেও আছে বিধি-নিষেধ। এরমধ্য দিয়ে মার্কিন আদালতের ইঙ্গিত- মার্কিন প্রেসিডেন্ট সবসময় যা চাইবেন তা তিনি পাবেন না
অধীনস্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বরখাস্তের বিষয়ে ট্রাম্পের ক্ষমতা বাড়িয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর প্রেসিডেন্টের ব্যাপক ক্ষমতা সংক্রান্ত মামলার আপিলের রায় ট্রাম্পের পক্ষে গেছে। ৬-৩ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে বলা হয়, অধীনস্থ নির্বাহী কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে অপসারণে প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধু ট্রাম্পই নন, যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্টরাও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারদের অপসারণ ও নতুন নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা পাবেন।
রায়ের পর ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, ৯০ বছরের নজির পুরোপুরি বাতিল হয়েছে। এমন এক সময়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যখন সেটির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল।
তবে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়ানোর আলোচিত ওই রায়ের আড়ালে আদালত কিছু বিষয়ে প্রেসিডেন্টের লাগামও টেনে ধরেছেন। ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুকের অপসারণ ঘিরে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন আদালত। পাঁচ-চার ভোটে পাস হওয়া রায়ে বলা হয়েছে, যৌক্তিক ও সুনির্দিষ্ট কারণ দেখানো ছাড়া ফেড গভর্নরকে অপসারণ করতে পারবেন না ট্রাম্প। এদিকে, ট্রাম্পের অভিযোগ, লিসা কুক ঋণসংক্রান্ত জালিয়াতি করেছেন। এছাড়া, সুদের হার না কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক বজায় ছিল লিসা কুকের।
একইদিনে আরেকটি মামলায় ধাক্কা খান ট্রাম্প। ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট ভোট অতিরিক্ত ৫ দিন পরও গণনা করা যাবে। অতিরিক্ত সময়সীমা বাতিলে রিপাবলিকানদের করা আপিল খারিজ করে দেয় আদালত। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে আশ্চর্যজনক ও সচ্ছ্ব নির্বাচনের জন্য ক্ষতিকর বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে হতাশাজনক ছিল ট্রাম্প বনাম ই. জিন ক্যারল মানহানির মামলার শুনানি বাতিল করা। সাবেক ম্যাগাজিন লেখক ই. জিন ক্যারলের অভিযোগ ছিল, ১৯৯০-এর দশকে একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পোশাক বদলানোর কক্ষে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। এরপর তাকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্যের জেরে ট্রাম্পকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ লাখ ডলার দেয়ার রায় হয়। ২০২৩ সালের জুরি বোর্ডের রায়কে বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্ট। যদিও ট্রাম্প বলছেন, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও আইনের অপব্যবহার।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা কিছুটা বাড়লেও সুদের হার কমানো এবং নির্বাচনি সংস্কারের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের কাছে হেরে গেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।





