ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বার্তার পরপরই তার মুখপাত্র ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার এই সপ্তাহে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের জন্য দোহায় যাচ্ছেন। সিএনএন জানিয়েছে, উইটকফ ইতিমধ্যে কাতারের পথে রয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার জানিয়েছেন, তাদের একটি বিশেষজ্ঞ দল দোহা সফর করবে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আসন্ন দিনগুলোতে আমরা কোনো পর্যায়েই মার্কিন পক্ষের সঙ্গে কোনো আলোচনা সভায় বসব না।’
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত রোববার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ১০টি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহন করা হয়। ওমান ও ইরানের জলসীমার মধ্যে অবস্থিত এই পথে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দেশই টোল বা মাশুল আদায় করতে পারে না। তবে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের নির্ধারিত রুট এড়িয়ে চলার যেকোনো চেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ বা ‘ডি-মাইনিং’ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ওমান ও ফ্রান্স যৌথভাবে মাইন অপসারণের ঘোষণা দিলেও ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জোর দিয়ে বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী এই কাজ কেবল ইরানই করবে। তিনি ফ্রান্সকে এ বিষয়ে উসকানি না দেয়ার জন্য সতর্ক করেছেন।
শিপ ট্র্যাকিং ফার্ম কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের গতি কমে গেছে। অনেক জাহাজ নিরাপত্তার খাতিরে তাদের অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (ট্র্যাকিং) বন্ধ করে দিয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, তারা এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের জানিয়েছেন, ইরান যতক্ষণ এই প্রণালি ব্যবস্থাপনা করবে, ততক্ষণ অঞ্চলে ওয়াশিংটনের আধিপত্যের স্বপ্ন পূরণ হবে না।





