ড্রেনের পানি ও ভারী বর্ষণে তলিয়ে যায় ভিক্টোরিয়া কলেজ, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

পানিতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বেহাল দশা
পানিতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বেহাল দশা | ছবি: এখন টিভি
0

ভারী বর্ষণ এবং নগরীর ড্রেনের পানিতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস তলিয়ে যায় হাঁটু পানির নিচে। দুর্ভোগে পড়েন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, ব্যাহত হয় ক্লাস এবং পরীক্ষা। একই সংকটে খাদ্যগুদাম, বিসিকসহ আশপাশের পুরো এলাকা। এ অঞ্চল সীমানার বাহিরে থাকায় দায়িত্ব নিচ্ছে না সিটি করপোরেশন। আর উপজেলা প্রশাসনেরও তেমন তৎপরতা নেই।

বর্ষায় প্রতিদিন ময়লা পানি মাড়িয়ে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। কলেজের ডিগ্রি শাখার সড়ক, হল, অডিটোরিয়াম ও ভবনের নিচতলা ডুবে আছে পানিতে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই অচল হয়ে পড়ে ক্যাম্পাস। নোংরা পানিতে বাড়ছে চর্মরোগের ঝুঁকি। ক্যাম্পাসজুড়ে আধুনিক ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক, টেকসই অবকাঠামো ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চান তারা।

একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘সবকিছুর উন্নতি হলেও আমাদের এখানে কখনোই ঠিক করা হয়নি। আর এক ঘণ্টা বৃষ্টি হলে কলেজের সমানে এক হাঁটু পরিমাণ পানি হয়।’

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল বাশার ভূঁইয়া বলেন, ‘ড্রেনেজের সমস্যা আমাদের রয়েছে আর বাঁধের। এই বাঁধ আমাদের হয়ে গেলে আর ড্রেনেজ যেটার কাজ হইতেছে, এইটা হয়ে গেলে আমি মনে করি ৭০ শতাংশ কমে যাবে।’

একই চিত্র খাদ্যগুদাম ও বিসিক শিল্পনগরীতেও। মাসের পর মাস জলাবদ্ধতায় ব্যাহত হচ্ছে খাদ্য সংরক্ষণ, শিল্প উৎপাদন। স্থানীয়দের দাবি, রেলপথ উন্নয়নের সময় খাল-কালভার্ট এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়নে পানি প্রবাহের পথ সংকুচিত হওয়ায়- বৃষ্টির পানি এখন নিষ্কাশনের পথ না পেয়ে জলাবদ্ধতায় পরিণত হয়েছে স্থায়ী দুর্ভোগে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রোগী নিয়ে যাওয়া যায় না কোথাও, পানির কারণের মোটরযান নষ্ট হয়ে যাবে তাই।

জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও ওয়াসার কার্যকর ভূমিকা জরুরি। কলেজ-খাদ্যগুদাম ও বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কমিয়ে নিচু অঞ্চলটিকে বাসযোগ্য করতে সমন্বিত উদ্যোগ চান জেলা প্রশাসক।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, ‘যে অংশটা আমাদের জাগুয়ার ঝুলি দিয়ে, তারপর আমাদের সোয়াগাজী, তারপর পাদুয়ার বাজারের পাশ দিয়ে যে ড্রেন-খাল নেমে গেছে দক্ষিণ দিকে; আমাদের বিসিক, তারপর আমাদের ইপিজেড-এর পাশ দিয়ে যে খালগুলো আছে—এগুলো আমাদের ফাংশনাল করতে হবে। একটু সময় লাগবে। আমি আশা করি যে, হয়তো আমরা যদি এই প্রকল্পগুলো নিতে পারি, তাহলে এটা সম্ভব।’

ক্যাম্পাস, খাদ্য গুদামসহ আশপাশের পুরো জনপদ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সংকটে জর্জরিত। নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবার বৃষ্টি বাসিন্দাদের কাছে নতুন দুর্ভোগের পূর্বাভাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগই পারে এই জল-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে।

জেআর