রাস্তায় জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে বংশবিস্তার করেছে মশা। পানিতে ভেসে থাকা এসব লার্ভা কয়েক দিনের মধ্যে পরিণত হবে পূর্ণাঙ্গ মশায়। এমন চিত্র চাঁদপুর শহরজুড়ে। শহরের ড্রেনগুলো মশা উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে। কয়েল কিংবা অ্যারোসলেও দমানো যাচ্ছে না মশা। তাই দিনের বেলায়ও মশারি ব্যবহার করছেন অনেকে।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমরা দিনের বেলায় মশারিটা নিয়ে ঘুমাইতে হয়। রাতের বেলা তো মশারি এবং কয়েল দুইটাই একসঙ্গে চলে।’
অন্য একজন বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবারের জায়গায় দুইবার করে অন্তত মশার ওষুধ ছিটানো প্রত্যেকটা পাড়ায় পাড়ায় দরকার। কিন্তু সেটা তো হচ্ছে না।’
শহরে বসবাসকারীদের একজন বলেন, ‘মশা দমনের ব্যবস্থা না হয়, তাহলে তো আমাদের সামনে যে ডেঙ্গু রোগের উৎপাদন আছে, তখন তো আমাদের টাকা কুলাবে না। অসুখ-বিসুখ আরও বাড়বে।’
সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে চাঁদপুরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের সেবা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। গেল বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শুধু চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়েছেন সহস্রাধিক রোগী।
চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মশা যেখানে প্রজনন করে, যেখানে পানি জমা থাকে, যেখানে ময়লা-আবর্জনা থাকে, সেই জায়গাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পৌরসভার পাশাপাশি আর কি, আমাদের প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব যে যার যার বাড়ি, অফিস, আদালত এগুলোকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। মশার বংশবিস্তার করতে না পারলে শুধু হাসপাতালের মাধ্যমে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলা করা খুবই দুঃসাধ্য।’
আরও পড়ুন:
পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের ১০টি ফগার মেশিনের মধ্যে পাঁচটিই অচল হয়ে পড়ে আছে। নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও দু’টি দল নিয়মিত মশক নিধনে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান পৌর কর্তৃপক্ষের।
চাঁদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিমাদ্রী খীসা বলেন, ‘আমরা আমাদের কার্যক্রম ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এ কার্যক্রমের মধ্যে আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং আমাদের যেই টিমগুলা রয়েছে, আমাদের মূলত দুইটা টিম, পাঁচজন পাঁচজন সদস্য করে দুইটা টিম, এই দুইটা টিমই আমাদের পৌরসভার সব জায়গায় মশক নিধনের কাজ করছে।’
মশার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা পৌরবাসীর।




