অকেজো কোটি টাকার স্লুইস গেট; পুরনো পদ্ধতিতেই সেচ কাজ করছে কৃষক

স্থাণীয়দের তৈরি বাঁধ ও স্লুইস গেট
স্থাণীয়দের তৈরি বাঁধ ও স্লুইস গেট | ছবি: এখন টিভি
0

বান্দরবানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের অর্থায়নে নির্মিত কোটি টাকার স্লুইস গেট কোনো কাজে আসছে না কৃষকের। এটি থাকার পরও পুরনো পদ্ধতির বাঁধ দিয়ে জমিতে সেচ কাজ করছে কৃষকরা। আর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে স্লুইস গেট। এতে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে বলে ক্ষোভ স্থানীয়দের।

পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে কোটি টাকার স্লুইস গেট। কৃষি কাজের জন্য বাঁধ দিয়ে সেচ কাজ করছে কৃষকরা।

সদর উপজেলার রেইছা গোয়ালিয়াখোলা এলাকায়, সেচ সুবিধার জন্য টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ প্রকল্পের আওতায় ২০২৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয় চারটি আধুনিক স্লুইস গেট। যার মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকেরা সেচ সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও খালটিতে পানি প্রবাহ না থাকায় স্লুইস গেটের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে কোটি টাকায় নির্মিত স্লুইস গেটগুলো সেচ কাজে কৃষকের কোনো কাজে আসছে না।

স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘নিজেরা মানুষ কেটে ওগুলো ভরাট করতেছি এবং কি যতগুলো পানি লাগতেছে ততগুলো পানি আমরা পাচ্ছি না।’

এলাকাবাসীদের একজন বলেন, ‘মেশিন দিয়ে পানি তুলি। স্লুইস গেটের কোনো উপকার নাই আমাদের।’

আরও পড়ুন:

জমি চাষে পুরনো পদ্ধতিতে বাঁধ দিয়ে সেচ কাজ করছে কৃষকরা। কোনোরকম পরিকল্পনা ছাড়া ও যেনতেন ভাবে স্লুইস গেটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করায় সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষকরা।

কৃষকদের একজন বলেন, ‘প্রায় দুই বছর হচ্ছে স্লুইস গেটটার কাজ চলতেছে। দুই বছরের পরেও এখনো মানে সম্পূর্ণ হয় নাই আজ।’

তবে অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করার কারণে স্লুইস গেইটগুলো কৃষকের কাজে আসছে না বলে জানান স্থানীয় চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘স্লুইস গেট করার পরে আমরা কোনো কিছু উপকার বা এখন যে খালগুলো যে মানে শুকিয়ে আছে, আমরা মনে করি ভবিষ্যতে হয়তো আমরা উপকার পাবো না। এখনো পর্যন্ত কাজগুলো যে মানে শেষ করতে পারি নাই।’

আরও পড়ুন:

তবে শুষ্ক মৌসুমে স্লুইস গেটের মাধ্যমে অনাবাদী জমি চাষের আওতায় আসবে বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী।

বান্দরবান এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, ‘স্লুইস গেটগুলো করার কারণে আমাদের আগে যে অনাবাদি জমি ছিল, এইগুলো এখন আবাদ করা যাবে এবং বাংলাদেশ এবং এই এলাকার কৃষি কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে, আমি এটা আশা করি।’

এলজিইডির তথ্যমতে চার কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে স্লুইস গেট নির্মাণের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেন জয়েন্ট ভেঞ্চারে নুর সিন্ডিকেট ও এমএম ট্রেডার্স।

এসএস