প্রেসিডেন্ট পাজের কৃচ্ছ্রসাধন নীতির প্রতিবাদে এবং তার পদত্যাগের দাবিতে গত ৫০ দিন ধরে চলা বিক্ষোভে দেশটির অর্থনীতি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ব্যারিকেড দেয়ায় প্রশাসনিক রাজধানী লা পাজ অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
গতকাল (শনিবার, ২০ জুন) ভোরে জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে পাজ বলেন, সরকারবিরোধী এই অবরোধ এখন আর কোনো সামাজিক আন্দোলন নয়, বরং এটি বলিভিয়ার গণতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করার একটি সুসংগঠিত প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবনযাত্রা সীমিত করার জন্য এই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়নি। বরং মানুষের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, এই ডিক্রি ৯০ দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে। তবে জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হুমকি বন্ধ হলে তা আগেই তুলে নেয়া হতে পারে। এই ডিক্রির আওতায় সড়ক বা মহাসড়ক অবরোধ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সড়ক চালু করতে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জ্বালানি ভর্তুকি বাতিলসহ পাজ সরকারের নেয়া বিভিন্ন কৃচ্ছ্রসাধন নীতির বিরুদ্ধে গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে এই বিক্ষোভ চলছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারী ও দাঙ্গা পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে ৩৬৫ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৩৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া পরিবহন ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে চিকিৎসাসেবার অভাবে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
বিক্ষোভ চলাকালে দেশটিতে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, সুপারমার্কেটগুলো খালি হয়ে গেছে এবং হাসপাতালে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার রাতে একটি শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি সই করেছেন পাজ। তবে কিছু বিক্ষোভকারী এখনো তার পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছেন এবং আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।





