ছোট ডাইনোসরের অস্তিত্ব না থাকার নেপথ্যে কী, গবেষণায় যা এলো

ছোট আকৃতির ডাইনোসর মাইক্রোর‌্যাপটরের মডেল
ছোট আকৃতির ডাইনোসর মাইক্রোর‌্যাপটরের মডেল | ছবি: রয়টার্স
0

ডাইনোসর বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে বিশাল কোনো প্রাণীর ছবি। যেমন—আর্জেন্টিনোসরাস, যার ওজন ছিল ৭০ থেকে ৯০ টন এবং লম্বা ছিল ১০০ ফুটের বেশি। কিন্তু ইঁদুরের মতো খুদে ডাইনোসর ছিল না কেন? বিবর্তনবিষয়ক সাময়িকী ‘ইভোলিউশন’-এ প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা বলছে, আদি স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কারণেই ডাইনোসররা আকারে ছোট হতে পারেনি। সম্প্রতি রয়টার্সের প্রতিবেদনে আলোচনা উঠে এসেছে।

প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি ও আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির বিজ্ঞানীরা গাণিতিক মডেল ব্যবহার করে মেরুদণ্ডী প্রাণীদের বিবর্তন ও শারীরিক গঠন বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, স্তন্যপায়ী, উড়ন্ত পাখি ও কচ্ছপের শরীরের আকারের পেছনে শারীরবৃত্তীয় কারণ থাকলেও ডাইনোসরের ক্ষেত্রে তা খাটছে না। তারা ধারণা করছেন, ডাইনোসররা যখন পৃথিবীতে রাজত্ব করছিল, তখন ছোট প্রাণীদের জন্য থাকা পরিবেশের জায়গাগুলো (ইকোলজিক্যাল নিস) আদি স্তন্যপায়ী প্রাণীরা দখল করে রেখেছিল।

গবেষণার সহ-প্রধান ও প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী স্টিফানি লেচকি বলেন, ‘সাধারণত খুদে প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য কম রিসোর্সের প্রয়োজন হয় এবং তারা খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারে।’ কিন্তু ডাইনোসরদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট যাদের খোঁজ পাওয়া গেছে, যেমন—মাইক্রোর্যাপ্টর, সেগুলোর ওজন ছিল প্রায় ৪৩০ গ্রাম। যা বর্তমানের মৌমাছি হামিংবার্ড (১.৭৫ গ্রাম) বা শ্রু-জাতীয় স্তন্যপায়ী প্রাণীর (১.৮ গ্রাম) চেয়ে অনেক বেশি।

নিউ ইয়র্কের আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির কিউরেটর রজার বেনসন বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের ৯০ শতাংশ পাখি ও ৭৫ শতাংশ স্তন্যপায়ী প্রজাতিই আকারে ছোট। ডাইনোসররা প্রায় ২৩ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয় এবং ৬৬ কোটি বছর আগে গ্রহাণুর আঘাতে বিলুপ্ত হওয়ার আগপর্যন্ত তারাই ছিল শ্রেষ্ঠ। ওই দীর্ঘ সময়ে ছোট আকারের স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে ডাইনোসররা আর আকারে ছোট হতে পারেনি। আবার ডাইনোসরদের কারণে ওই সময় স্তন্যপায়ী প্রাণীরাও আকারে বড় হতে পারেনি। ডাইনোসর বিলুপ্ত হওয়ার পরই স্তন্যপায়ীরা বিশালাকার ধারণের সুযোগ পায়।’

গবেষকদের মতে, ডাইনোসর থেকে বিবর্তিত হয়ে পাখিরা যখন ওড়ার সক্ষমতা অর্জন করে, তখনই তারা আকারে ছোট হওয়ার সুযোগ পায়। ওড়ার ক্ষমতা তাদের স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা থেকে মুক্তি দিয়েছিল।

এএম