পুনঃখননে প্রাণ ফিরছে লক্ষ্মীপুরের মুছার খাল

লক্ষ্মীপুরের মুছার খাল
লক্ষ্মীপুরের মুছার খাল | ছবি: এখন টিভি
0

উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে ছোট-বড় অসংখ্য খালের মধ্যে একটি মুছার খাল। একসময় বছরে ৩ ফসল উৎপাদনে ব্যবহার হতো খালটির পানি। কিন্তু দখল-দূষণ আর পলি জমে খালটি এখন মৃত প্রায়। সম্প্রতি খালটির সাড়ে ছয় কিলোমিটার পুনঃখনন শুরু হওয়ায় জলাবদ্ধতা নিরসন ও সেচ সংকট দূর হয়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে কৃষক।

মুছার খাল সদরের চররমনী মোহন ইউনিয়নের মজুচৌধুরীর হাট থেকে শুরু করে ভবানীগঞ্জ, কমলনগরের চরমার্টিন হয়ে তোরাবগঞ্জ উত্তর বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত। একসময় খালটির পানি ব্যবহার করে বছরে ৩ বার ফসল উৎপাদন করা হতো। পরবর্তীতে দখল-দূষণ, ছোট ছোট বাঁধ আর পলি জমে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে এটি মরা খালে পরিণত হয়। দুই যুগেরও বেশি সময় শুষ্ক মৌসুমে পানি না পাওয়ায় এক ফসলেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় কৃষকরা।

বর্তমান সরকারের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে মুছার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়া হয়। কমলনগর উপজেলার উত্তর সীমানা থেকে ভবানীগঞ্জের চরমনসা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার খাল পুনঃখনন প্রায় শেষ পর্যায়ে। একই সঙ্গে খালপাড় সংস্কার, রাস্তা বাঁধাই এবং দুই পাশে গাছ লাগানোর কাজও চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খাল কাটার ফলে এখন তাদের ফসলি জমিতে পানি নিয়ে কোনো সমস্যায় পরতে হবে না তাদের।

সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় বছরে দুই-তিনটি ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হবেন কৃষক।

ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি বলেন, ‘এ সময়ও খালে পানি দেখা যেত না। কিন্তু এ খাল খননের মাধ্যমে এখন প্রবহমান পানির প্রবহমান, জলাবদ্ধতা পাশাপাশি কৃষকরা এলাকায় সব ধরনের সবজি চাষ থেকে শুরু করে ধানের মৌসুম চাষাবাদ করতে পারব।’

মুছার খাল পুনঃখননে সেচ সংকট ও জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এই খাল ঘিরে কৃষি অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

জেআর