নিহত ব্যক্তিরা হলেন মো. রাশেদুজ্জামান (২২), তার শ্যালক মো. গালিব (১৮) ও শ্যালিকা মোসা. সুরাইয়া (১২)। এদের মধ্যে মো. রাশেদুজ্জামানের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মনাগ গ্রামে। আর গালিব ও সুরাইয়ার বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে। তারা বর্তমানে দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়ায় একটি বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে মো. রাশেদুজ্জামান, গালিব ও সুরাইয়া একসঙ্গে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে তারা লেকের গভীর পানিতে তলিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের আর দেখতে না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একটি ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ দুই ঘণ্টার চেষ্টায় প্রথমে মো. রাশেদুজ্জামান ও গালিবের লাশ উদ্ধার করা হয় এবং পরে নিখোঁজ সুরাইয়ার লাশও উদ্ধার করতে সক্ষম হন ডুবুরিরা।
নিহত মো. রাশেদুজ্জামানের পরিবার জানায়, জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে মাত্র গত সপ্তাহে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। কিন্তু কাজ জোগাড় করার আগেই এই দুর্ঘটনা তার প্রাণ কেড়ে নিলো।
ঘটনার খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, ‘পরিবারের সদস্যদের দাবি অনুযায়ী তিনজনই সাঁতার জানতেন। সাঁতার জানা সত্ত্বেও কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটলো, তার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ পুলিশ জানায়, উদ্ধার অভিযান শেষে মরদেহগুলো আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই পরিবারের তিন তরুণের এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।





