তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইতালি, প্রায় সব বড় শহরে ‘রেড অ্যালার্ট’

তীব্র তাপপ্রবাহে ইতালির নেপলসে হাঁসফাঁস করছেন পর্যটকেরা
তীব্র তাপপ্রবাহে ইতালির নেপলসে হাঁসফাঁস করছেন পর্যটকেরা | ছবি: বিবিসি
0

নতুন তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইতালি। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির প্রায় সব বড় শহরে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তর থেকে দক্ষিণে ছড়িয়ে থাকা রাজধানী রোম, মিলান, ভেনিস ও নেপলসসহ ১৯টি শহরে এরই মধ্যে এই সতর্কতা জারি রয়েছে। আগামী সোমবারের মধ্যে মাত্র দুটি শহর বাদে সব শহরই রেড অ্যালার্টের আওতায় চলে আসবে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার অনেক জায়গায় তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে পৌঁছেছে। বৃদ্ধ, শিশু বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থদের পাশাপাশি সুস্থ ও কর্মক্ষম মানুষদেরও ঝুঁকিতে থাকার বিষয়ে সতর্ক করছে কর্তৃপক্ষ।

একের পর এক তাপপ্রবাহে তৈরি হওয়া অনুকূল পরিস্থিতিতে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ এখন ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত। ঠিক এমন সময়ে ইতালিতে এসব সতর্কবার্তা জারি করা হলো।

শনিবার প্রকাশিত সর্বশেষ তাপপ্রবাহ বুলেটিনে ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সোমবারের মধ্যে দেশটির ২৭টি বড় শহরের মধ্যে ২৫টিই রেড অ্যালার্টের আওতায় চলে আসবে। ইতালির মানচিত্রে ‘বুট’ আকৃতির দক্ষিণ প্রান্তের রেজ্জো কালাব্রিয়া এবং সিসিলি দ্বীপের মেসিনা—শুধু এই দুটি শহর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বা ‘অ্যাম্বার’ সতর্কতার অধীনে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত সবচেয়ে গরম সময়ে সরাসরি তাপ ও রোদ এড়িয়ে চলা, ঘরে থাকা এবং প্রচুর পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা একটি সাবট্রপিক্যাল অ্যান্টিসাইক্লোনের কারণে এই তীব্র গরম পড়ছে। এটি ভূমধ্যসাগরের ওপর এখন শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

এদিকে গ্রিস, ফ্রান্স, পর্তুগাল ও স্পেনের দমকল কর্মীরা এখনো হাজার হাজার হেক্টরজুড়ে ছড়িয়ে পড়া দাবানল নেভাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ভার এলাকায় বেশ কয়েকদিন নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি দাবানল শুক্রবার সন্ধ্যায় নতুন করে জ্বলে ওঠে। এতে ওই এলাকা থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ জনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিরোন্দ এলাকায় ভয়াবহ দাবানল এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সেখানে সরিয়ে নেয়া প্রায় ২ লাখ বাসিন্দা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পেরেছেন।

গ্রিসের ভিওতিয়ার একটি উপকূলীয় শহরে ভয়াবহ দাবানলের কারণে সেখানে আটকে পড়া কয়েকশ মানুষকে সমুদ্রপথে সরিয়ে আনা হয়েছে। এদের বেশির ভাগই পর্যটক। এদিকে ইইউর তথ্য অনুযায়ী, স্পেনে ২০২৬ সালে ২ লাখ হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে; যা বছরের এই সময়ের গড়ের প্রায় পাঁচ গুণ। পর্তুগালেও দাবানলে পুড়ে যাওয়া জমির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সারা বিশ্বেই তাপমাত্রা বাড়ছে। কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপই সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। এই মহাদেশের উষ্ণায়নের গতি বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণ। এর ফলে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ ও দাবানল বাড়ছে এবং ইউরোপের পানি সরবরাহের ওপরও চাপ পড়ছে।

এএম