ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক বক্তব্যে দাবি করেছেন, চলমান সংঘাতে তার দেশ শক্তিশালী হয়েই আবির্ভূত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানই জয়ী হয়েছে।’ আরাঘচির এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই হরমুজ প্রণালির দিকে ধেয়ে আসা বেশ কিছু ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে, অনুমতি ছাড়া জলপথ অতিক্রমের চেষ্টাকারী জাহাজগুলোকে সতর্ক করতে ইরানি বাহিনীও সিরিক বন্দর ও কেশম দ্বীপ এলাকায় গুলি চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
প্রস্তাবিত এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেয়ার কথা রয়েছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, চুক্তির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের আটকে রাখা সম্পদ ছেড়ে দেবে এবং তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। ট্রাম্প এই খবরের কিছু অংশ ‘ভুল’ বলে উড়িয়ে দিলেও হোয়াইট হাউস একে ‘পারফরম্যান্স-ভিত্তিক’ চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে।
পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে দুই দেশের অবস্থানে এখনো ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই চুক্তির ফলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ হবে এবং ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করা হবে। কিন্তু আরাঘচি জানিয়েছেন, ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের পক্ষে নয়, বরং মজুত করা ইউরেনিয়াম তরল বা মিশ্রিত অবস্থায় রেখে দিতে চায়। এছাড়া চুক্তিতে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরাইল এই আলোচনার অংশ নয় এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তার দেশ এই চুক্তিতে পক্ষ হবে না। লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবিও নাকচ করে দিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এই সমঝোতার ইতিবাচক খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৩ শতাংশেরও বেশি কমে দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।





