যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা; হুমকিতে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি

ইউএসএস মাইকেল মারফি
ইউএসএস মাইকেল মারফি | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই উত্তেজনার ফলে গত এপ্রিলে হওয়া একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর আগে সোমবার হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জেরে এই পাল্টাপাল্টি সংঘাতের সূত্রপাত হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘তেহরান যদি দ্রুত শান্তি চুক্তিতে সই না করে, তবে হামলা অব্যাহত থাকবে।’ বুধবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প জানান, আপাতত হামলা বন্ধ হলেও ইরান চুক্তি সই না করলে আবারও ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু হবে। ট্রাম্পের এই হুমকির পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৩ ডলার বেড়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরসহ ১৮টি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এছাড়া জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান।

আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী যেকোনো নৌযানে হামলা চালাবে। ইতোমধ্যে দুটি মার্কিন জাহাজে হামলার দাবি করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম। তবে সেন্টকম এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, তাদের কোনো জাহাজ আক্রান্ত হয়নি এবং প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেন, ‘ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য করতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আজ রাতে তাদের ওপর কঠোর আঘাত করবো এবং আশা করি ইরান সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। যদি বোমার মাধ্যমে আলোচনা করতে হয়, তবে আমরা তাই করবো।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন হামলায় ১০টি গ্রামের খাবার পানির জলাধার ধ্বংস হয়েছে, যা একটি পরিকল্পিত যুদ্ধাপরাধ। তবে পেন্টাগন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে লেবাননেও ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। বুধবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। ইরান এই যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ফ্রিজ করা অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের ওপর থেকে সব বিধিনিষেধ তুলে নিতে হবে।

এএম