এআই ট্রাফিক মামলার ভুয়া এসএমএস! প্রতারণা থেকে বাঁচতে ডিএমপির গুরুত্বপূর্ণ ৭ নির্দেশনা

অনলাইন ট্রাফিক মামলা চেক
অনলাইন ট্রাফিক মামলা চেক | ছবি: এখন টিভি
0

‘ট্রাফিক আইনের অধীনে আপনার গাড়ির ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জন্য এটিই চূড়ান্ত সতর্কবার্তা।’ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (BRTA) বা ডিএমপির নাম ব্যবহার করে ইদানীং অনেকের ফোনেই এমন একটি ভীতিজাগানিয়া খুদে বার্তা বা এসএমএস (SMS) আসছে। বার্তাটিতে একটি নির্দিষ্ট ট্রাফিক টিকিট নম্বর, আইনি ধারা, আইন ভঙ্গের কারণ (যেমন: অতিরিক্ত গতি বা অবৈধ পার্কিং) এবং জরিমানা পরিশোধের জন্য একটি সন্দেহজনক ওয়েবসাইটের লিংক জুড়ে দেওয়া হচ্ছে (AI Traffic Case SMS Fraud Bangladesh)।

অনেকেই এই অনলাইন ট্রাফিক মামলা (Online Traffic Case) সংক্রান্ত বার্তাটি পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। তবে একটু সতর্ক হলেই দেখা যাচ্ছে, যাদের কোনো যানবাহন নেই, তাদের ফোনেও হুবহু একই বার্তা পাঠানো হচ্ছে। মূলত, সাধারণ মানুষকে ডিজিটাল ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নিতে এটি সাইবার অপরাধী ও প্রতারক চক্রের একটি নতুন কৌশল।

আরও পড়ুন:

এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ২৫ মে একটি জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (DMP) ট্রাফিক বিভাগ। তাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এমন কোনো বিভ্রান্তিকর বা ভুয়া বার্তা ডিএমপির পক্ষ থেকে পাঠানো হচ্ছে না।

এআই ট্রাফিক মামলা ও প্রতারণা থেকে রক্ষার ৭টি জরুরি তথ্য (7 Tips to Stay Safe from Traffic SMS Fraud)

ডিজিটাল জালিয়াতি বা অনলাইন আর্থিক প্রতারণা (Online Financial Fraud) থেকে নিজেকে ও নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে ট্রাফিক বিভাগের দেওয়া নিচের ৭টি তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মনে রাখুন:

১. এআই মামলার সত্যতা: গত ৭ মে থেকে ঢাকার বিভিন্ন মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ট্রাফিক ক্যামেরা (AI Traffic Camera System) চালু করেছে ডিএমপি। এই স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারটি কেবল আইন অমান্যকারী গাড়িগুলোকে শনাক্ত করে ডিজিটালি মামলা নথিভুক্ত করছে।

২. চিঠির মাধ্যমে নোটিশ: ডিজিটাল ট্রাফিক মামলার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে ম্যানুয়ালি বা মানবিকভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করার পর, সরাসরি ডাকযোগে গাড়ির মালিকের স্থায়ী/বর্তমান ঠিকানায় অফিশিয়াল চিঠির মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে।

৩. দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষর: সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী, আপনার ঠিকানায় পাঠানো কাগজের চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বৈধ ও অফিশিয়াল স্বাক্ষর অবশ্যই থাকবে।

আরও পড়ুন:

৪. ডিএমপির অফিশিয়াল নম্বর: যদি কোনো কারণে খুদে বার্তা বা এসএমএস পাঠানো হয়, তবে তা কেবল ডিএমপির নির্ধারিত অফিশিয়াল নম্বর ০১৩২০-০৪২২০৭ ও ০১৩২০-০৪২২২৭ থেকেই পাঠানো হয়ে থাকে। অন্য কোনো ব্যক্তিগত বা মাস্কিং নম্বর থেকে আসা মেসেজ গ্রহণযোগ্য নয়।

৫. জরিমানা পরিশোধের সঠিক মাধ্যম: ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের যেকোনো অনলাইন ট্রাফিক জরিমানা (Traffic Fine Online Payment) শুধুমাত্র অনুমোদিত মোবাইল ব্যাংকিং (যেমন: 'উপায়') এবং কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন (সিবিবিএল)-এর মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়। প্রতারকদের দেওয়া কোনো লিংকে বা ব্যক্তিগত নম্বরে টাকা পাঠাবেন না।

৬. পিন বা ওটিপি শেয়ারিং নিষিদ্ধ: ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ বা বিআরটিএ কখনোই আপনার কোনো ব্যক্তিগত পিন কোড (PIN Code), পাসওয়ার্ড বা ওটিপি (OTP) জানতে চাইবে না। কোনো বার্তায় বা ফোনে এসব তথ্য চাইলে নিশ্চিতভাবে বুঝবেন সেটি জালিয়াতি।

৭. হেল্পলাইন ও জরুরি যোগাযোগ: ট্রাফিক এআই বা ভিডিও মামলার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য যেকোনো তথ্যের প্রয়োজনে সরাসরি ০১৩২০-০৪২২০৭ ও ০১৩২০-০৪২২২৭ নম্বরে কল করুন। এছাড়া যেকোনো সাইবার ক্রাইম বা জালিয়াতির মুখোমুখি হলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ (National Emergency Service 999)-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:

একনজরে ট্রাফিক এআই মামলা ও জালিয়াতি প্রতিরোধের উপায়

বিষয় (Topic) বৈধ বা আসল ট্রাফিকের নিয়ম (Official Rules) প্রতারণা চেনার উপায় (Fraud Alerts)
মামলার নোটিশ মাধ্যম
(Notification Mode)
ডিএমপির এআই (AI) ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়া মামলা প্রথমে যাচাই করে সরাসরি ডাকযোগে কাগজে চিঠি পাঠানো হয়। মেসেজে কোনো লিংক দিয়ে টাকা দাবি করলে তা সম্পূর্ণ ভুয়া।
অফিশিয়াল মোবাইল নম্বর
(Official SMS Source)
খুদে বার্তা পাঠাতে কেবল ০১৩২০-০৪২২০৭ এবং ০১৩২০-০৪২২২৭ নম্বর দুটি ব্যবহার করে ডিএমপি। যেকোনো ব্যক্তিগত বা সাধারণ মাস্কিং নম্বর থেকে আসা মেসেজ।
জরিমানা পরিশোধ
(Fine Payment)
অনুমোদিত মোবাইল ব্যাংকিং (উপায়) এবং কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন (সিবিবিএল)-এর মাধ্যমে বৈধ চালানে দিতে হয়। কোনো অপরিচিত ওয়েবসাইটে কার্ডের তথ্য বা বিকাশে টাকা চাইলে।
ব্যক্তিগত নিরাপত্তা
(Privacy & Security)
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কখনোই আপনার অ্যাকাউন্টের পিন, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি জানতে চাইবে না। মেসেজ বা কল করে পিন কোড কিংবা ওটিপি (OTP) দাবি করা।
জরুরি হেল্পলাইন
(Emergency Hotline)
এআই বা ভিডিও মামলার সত্যতা জানতে সরাসরি ০১৩২০-০৪২২০৭ নম্বরে অথবা প্রতারণার শিকার হলে সাথে সাথে জাতীয় জরুরি সেবা '৯৯৯'-এ যোগাযোগ করুন।

আরও পড়ুন:

এসআর