পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী ডিএল পেট্রোল পাম্পের বিক্রির টাকা প্রতিদিন সকালে ব্যাংকে জমা দিতে নেয়া হয়। শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় ওই দুই দিনের টাকা রোববার একসঙ্গে ব্যাংকে নেয়া হচ্ছিলো। এ কারণে ওই দিন টাকার পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
টাকা বহনকারী গাড়িটি র্যাব-১-এর দক্ষিণ পাশে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িটির গতিরোধ করেন। একপর্যায়ে তারা গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে সেটি থামান। পরে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকার ব্যাগ নিয়ে মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। মামলায় ছিনতাই হওয়া টাকার পরিমাণ ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিএল পেট্রোল পাম্পের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত তাসীন আক্তার হক। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার লেনদেন হয়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিনের বিক্রির টাকা সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ব্যাংকে জমা দেয়ার জন্য নেয়া হয়। ছুটির দুই দিনের টাকা রোববার একসঙ্গে ব্যাংকে জমা দেয়ার কারণে ওই দিন তুলনামূলক বেশি অর্থ বহন করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে একই সময়ে পেট্রোল পাম্প থেকে টাকা ব্যাংকে নেয়া হতো। টাকা বহনের নির্দিষ্ট সময় ও রুট সম্পর্কে ছিনতাইকারীরা আগে থেকেই জানত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে রোববার দুই দিনের টাকা একসঙ্গে ব্যাংকে নেয়া হবে—এ তথ্য দুর্বৃত্তদের কাছে আগে থেকেই ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
এছাড়া টাকা বহনের সময়সূচি ও নির্দিষ্ট রুট সম্পর্কে কেউ তথ্য সরবরাহ করেছিল কি না, তাও তদন্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন পর্যন্ত ছিনতাইয়ে জড়িত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট কাজ করছে।
উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তারেক আহমেদ বেগ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। তবে আমাদের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। আশা করি, শিগগির আসামি গ্রেপ্তার ও রহস্য উন্মোচন হবে।’





