কাজী ফার্মসের নাম ভাঙিয়ে ৩৪ লাখ টাকার গমের ভূষি আত্মসাৎ, আটক ২

আটক হওয়া দু’জন
আটক হওয়া দু’জন | ছবি: সংগৃহীত
0

কাজী ফার্মস লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৩৪ লাখ ১৯ হাজার ২৫৬ টাকার গমের ভূষি আত্মসাৎকারী সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট।

আটকরা হলেন—পাবনার চাটমোহর উপজেলার নটাবাড়িয়া গ্রামের নুরু মোল্লার ছেলে মনিরুল ইসলাম এবং একই উপজেলার দোদারিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে খালেক সরদার। মনিরুলকে যশোরের নাজির শংকরপুর এলাকা এবং খালেক সরদারকে পুরাতন কসবা এলাকা থেকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, আটক দু’জনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনার পুটে বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসময় চক্রের আরেক সদস্য আবুল বাসার পালিয়ে যায়। তবে সেখান থেকে আত্মসাৎ করা গমের ভূষির একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযানে প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করা গমের ভূষির ১০ লাখ ৩ হাজার টাকা নগদ, ৭৭ বস্তা গমের ভূষি, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন, ৫১টি সিমকার্ড, দুটি ল্যাপটপ, একটি মোটরসাইকেল ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই প্রতারক চক্রটি কাজী ফার্মস লিমিটেডের যশোর কার্যালয়ের ম্যানেজার ও পরিচালক পরিচয়ে চুয়াডাঙ্গার মেসার্স আর এস ইন্টারন্যাশনালের মালিক মানিক কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে প্রতি কেজি ৩২ টাকা দরে মোট ৭৫ মেট্রিক টন গমের ভূষি কেনার চুক্তি করে তারা।

এরপর ২২ ও ২৫ জুলাই দুই দফায় পাঁচটি ট্রাকে করে সরবরাহ করা গমের ভূষি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি বাজারসংলগ্ন কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সামনের সড়ক থেকে খালাস করে আত্মসাৎ করে চক্রটি।

পরে প্রতারকরা ব্যবসায়ীর কাছে আরও ৩০ হাজার টাকা ধার দাবি করলে তার সন্দেহ হয়। বিষয়টি যাচাই করতে কাজী ফার্মস লিমিটেডের যশোর কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন তিনি। তখন জানতে পারেন, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো গমের ভূষির অর্ডার দেয়া হয়নি। প্রতারকরা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে এই প্রতারণা করেছে।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ী যশোর জেলা পুলিশের কাছে অভিযোগ দেন। পরে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এসআই দেবব্রত ঘোষের নেতৃত্বে বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এনএইচ