হরমুজ প্রণালি নিয়ে চাপে ওমান; ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে নারাজ মাসকাট

ওমানের মুসান্দাম থেকে হরমুজ প্রণালিতে নোঙর করা জাহাজ
ওমানের মুসান্দাম থেকে হরমুজ প্রণালিতে নোঙর করা জাহাজ | ছবি: সিএনএন
0

হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা প্রবল চাপ মোকাবিলা করছে ওমান। দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্র হওয়া সত্ত্বেও ওমান স্পষ্ট করেছে যে, তারা কেবল আন্তর্জাতিক আইন মেনে এই কৌশলগত জলপথটি ব্যবস্থাপনার বিষয়েই তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে। মূলত জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা (আইএমও)-এর পরামর্শ অনুযায়ী একটি টেকসই নিয়ম চালুর লক্ষ্যে এই তৎপরতা চালানো হচ্ছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের সংকটে ওমান ঐতিহ্যগতভাবেই একটি ‘ব্যাক-চ্যানেল’ বা নেপথ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। তবে তাদের এই নিরপেক্ষতা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আকস্মিক মন্তব্যে ওমানে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে বসেন। এরপর গত মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সিনেট কমিটির শুনানিতে ওমানকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ‘ইরান এবং হয়তো ওমান ছাড়া পৃথিবীর আর কোনো দেশই হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না।’

ওমান অবশ্য ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বাকযুদ্ধে না জড়িয়ে কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত তালাল বিন সুলেমান আল-রাহবি মার্কিন কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন যে, মাসকাট এই পথে কোনো ধরনের ‘টোল’ বা মাসুল আদায়ের বিপক্ষে এবং তারা নৌচলাচলের স্বাধীনতার নীতিতে বিশ্বাসী।

এদিকে ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার চুক্তির এক মাসের মধ্যেই তারা জাহাজ চলাচল যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে রাজি। তবে তারা ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ নামে একটি সংস্থা গঠন করেছে, যাদের কাছ থেকে এই পথে চলাচলের জন্য অনুমতি নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই এই সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ইরান এখন তাদের পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে জাহাজের ওপর একটি ‘বৈষম্যহীন ফি’ আরোপের প্রস্তাব দিচ্ছে। ইরানের পরিবেশ দপ্তরের কর্মকর্তা আরমান খোরসান্দ বলেন, ‘এটি কেবল যাওয়ার জন্য কর নয়; বরং মার্কিন সামরিক অভিযানের ফলে হওয়া পরিবেশগত ক্ষতি কাটাতে এই অর্থের প্রয়োজন।’

আইএমও-এর মহাসচিব আর্সেনিও ডমিঙ্গুয়েজ অবশ্য গত ২৭ এপ্রিল নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছিলেন যে, কোনো আন্তর্জাতিক জলপথে পেমেন্ট বা টোল আরোপ করার আইনি কোনো ভিত্তি নেই। তবে ওমানের কিছু রাজনীতিক নির্দিষ্ট কিছু সেবার (যেমন সুরক্ষা ও উদ্ধার কাজ) জন্য ফি নেয়ার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। ওমানের শুরা কাউন্সিলের সদস্য মোহাম্মদ সুলেমান আল-হিনাই জানান, তাঁর দেশ কোনো ট্রানজিট ফি নেয় না, তবে উদ্ধার ও নেভিগেশন সহায়তা দিয়ে থাকে।

ওয়াশিংটন এখনো সন্দেহ করছে যে ওমান গোপনে ইরানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কোনো ফি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই ওমান মার্কিন জাহাজসহ বিভিন্ন নৌযানকে নেভিগেশন ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে আসছে। অন্যদিকে ৩শর বেশি শিপিং কোম্পানি ইরানের তৈরি করা নতুন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতির আবেদন করেছে, যাদের গন্তব্য মূলত চীন ও ভারত। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের রাডার ব্যবস্থাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে যাতে তেহরান এই জলপথের ওপর কোনো কার্যকর নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে না পারে।

এএম