ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরাইল আমাদের একজন দারুণ পার্টনার। আর বিবি নেতানিয়াহু ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য একজন চমৎকার পার্টনার। অন্যদের ক্ষেত্রে হয়তো তিনি তেমন নন, কিন্তু আমার কাছে তিনি সব সময়ই খুব ভালো।’
নিজের প্রশাসনের পদক্ষেপের সাফল্য দাবি করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা যা করেছি তা অত্যন্ত কার্যকর ছিল। তাদের আমাদের প্রয়োজন ছিল। আমাদের ছাড়া তারা কিছুই করতে পারতো না, এমনকি ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারতো না। তাদের একটি বড় সমস্যা ছিল এবং সেটি সমাধানে তারা আমাদের পাশে পেয়েছিল।’
ইরানকে একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘ইরান শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, পুরো বিশ্বের জন্য একটি বড় সমস্যা ছিল। তারা শুধু ইসরাইলেই থেমে থাকতো না, পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে তারা ধ্বংস করে দিতো।’ ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরানকে রুখে দেয়া সম্ভব হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এটি ছিল একটি বড় পদক্ষেপ।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, লেবাননে ইসরাইলি অভিযান নিয়ে গত সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে এক চরম উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়, যেখানে ট্রাম্প ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে ‘পাগল’ বলে গালি দেন এবং তাকে অকৃতজ্ঞ আখ্যা দিয়ে বলেন, ট্রাম্প না থাকলে আজ নেতানিয়াহু ‘জেলেই থাকতেন’।
এই ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হওয়ার পর বুধবার এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে তিনি সত্যিই নেতানিয়াহুকে পাগল বলেছিলেন, কারণ লেবানন নিয়ে তার ক্রমাগত লড়াইয়ের জেদে ট্রাম্প ‘বিরক্ত’ ছিলেন। ট্রাম্পের ধারণা, ইসরাইলের এই জেদ ইরানের সঙ্গে তার সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
যদিও নেতানিয়াহু এই ঘটনাকে স্রেফ ‘কৌশলগত মতপার্থক্য’ বলে এড়িয়ে গেছেন এবং ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসের ‘সেরা বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, তবে ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন যে তিনি না থাকলে আজ ইসরাইলের কোনো অস্তিত্বই থাকত না। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের লক্ষ্যেই তিনি এই যুদ্ধ শুরু করেছিলেন এবং এখন একটি সম্মানজনক চুক্তির মাধ্যমে এটি শেষ করতে চান।




