বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় ১০ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার কিনছে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে। উল্লেখ্য, গত বছর অবসর নেয়ার আগে টানা ৬০ বছর এই প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রখ্যাত বিনিয়োগ গুরু ওয়ারেন বাফেট।
অ্যালফাবেট জানিয়েছে, তাদের এআই চ্যাটবট ‘জেমিনি’র জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। গ্রাহকদের এই অভূতপূর্ব চাহিদা মেটাতেই তারা বিশ্বমানের এআই কম্পিউট অবকাঠামো সম্প্রসারণে এই অর্থ ব্যয় করবে। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক এই কোম্পানিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এআই প্রযুক্তির কারণে অ্যালফাবেটের ব্যবসার পরিধি বাড়ছে। এন্টারপ্রাইজ ও সাধারণ গ্রাহকদের পক্ষ থেকে এআই সমাধান ও সেবার যে চাহিদা তৈরি হয়েছে, তা কোম্পানির বর্তমান সরবরাহের তুলনায় অনেক বেশি।’
তবে এআই খাতে এত বিপুল অর্থ বিনিয়োগের বিষয়টি বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগেরও জন্ম দিয়েছে। কারণ, এখন পর্যন্ত এআই অবকাঠামোতে শত শত কোটি ডলার ঢালা হলেও বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের মুনাফা এখনো দৃশ্যমান নয়। ডয়চে ব্যাংকের বাজার কৌশলী জিম রিড বলেন, ‘অ্যালফাবেটের এই পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে এআই খাতে ব্যয়ের এই জোয়ার নজিরবিহীন মাত্রায় পৌঁছেছে।’
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। এর আগে ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় গোল্ডম্যান স্যাকসে ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানটিকে খাদের কিনারা থেকে বাঁচিয়েছিলেন ওয়ারেন বাফেট। গত বছরের গ্রীষ্ম থেকেই বার্কশায়ার অ্যালফাবেটে বিনিয়োগ শুরু করে।
অ্যালফাবেট তাদের নথিপত্রে ব্যাখ্যা করেছে যে ৮০ বিলিয়ন ডলারের অর্ধেক অর্থাৎ ৪০ বিলিয়ন ডলার সরাসরি এআই অবকাঠামো এবং বৈশ্বিক কম্পিউট সক্ষমতা বাড়াতে ব্যয় করা হবে। বাকি ৪০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ও কর সংক্রান্ত কাজে।
হারগ্রিভস ল্যান্সডাউনের জ্যেষ্ঠ ইকুইটি অ্যানালিস্ট ম্যাট ব্রিটজম্যান বলেন, ‘অ্যালফাবেটের এই তহবিল সংগ্রহ এটিই স্পষ্ট করে যে এআই যুদ্ধের বর্তমান পর্যায়টি অনেক বেশি পুঁজিনির্ভর হয়ে উঠেছে। তবে গুগল বর্তমানে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে থেকেই এই বিনিয়োগ করছে।’





