যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে ইরানি বাহিনীর হামলা; পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি

মার্কিন বিরোধী বিলবোর্ডের পাশে ইরানি পতাকা হাতে এক ইরানি
মার্কিন বিরোধী বিলবোর্ডের পাশে ইরানি পতাকা হাতে এক ইরানি | ছবি: রয়টার্স
0

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হররমুজগান প্রদেশের সিরিক দ্বীপে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে হামলার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স ওই মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং তা ধ্বংস করে দিয়েছে। ইরানের দাবি, এই ঘাঁটিটি ব্যবহার করেই মার্কিন বাহিনী তাদের যোগাযোগ স্থাপনায় অভিযান চালিয়েছিল। মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত সব লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।

ইরানি এই বাহিনী সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এরপরে কোনো হামলা চালানো হলে তার পাল্টা জবাব হবে ‘ভিন্ন মাত্রা ও প্রকৃতির’। এই ধরনের উত্তেজনার জন্য তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। তবে ইরানের এই দাবি নিয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছেই সিরিক দ্বীপের অবস্থান।

আরও পড়ুন:

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকারকে ‘‘দোষারোপ’’ করে ইইউ তাদের দ্বিচারিতা প্রকাশ করেছে।’

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও ইসরাইলে পাল্টাপাল্টি হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত পরবর্তী আলোচনাগুলো কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে সংঘাত নিরসনে ও সরাসরি আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে উভয় পক্ষ একে অপরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাব পাঠিয়ে দরকষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে।

এএম