এখামারিদের অভিযোগ, কোরবানির পশুর হাটে এবার অতিরিক্ত খরচ ও নানা হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। একেকটি গরুর খুঁটির জন্য ১৫০০ টাকা করে দিতে হচ্ছে বলে জানান তারা, যেখানে একটি খুঁটিতে মাত্র একটি গরুই বাঁধা যায়। প্রায় ২০ বছর ধরে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় গরু নিয়ে আসা এক খামারি বলেন, ‘এত বছরেও এমন অভিজ্ঞতা হয়নি।’ তার ভাষায়, অনেক হাট ঘুরেছেন, কিন্তু কমলাপুরের মতো বড় হাটেও কোনো পর্যাপ্ত শেড নেই। এ অবস্থায় হাট চালু রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এদিকে, উত্তরা গরুর হাটেও পরিস্থিতি একই রকম বলে অভিযোগ খামারিদের। হাটে প্রবেশের সময় কোনো সমস্যা না হলেও ভেতরে গিয়ে গরুপ্রতি ১৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হচ্ছে বলে জানান তারা। এক খামারি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি গরুতে যদি ১৫০০ টাকা করে নেয়া হয়, তাহলে ৩০টা গরুর ক্ষেত্রে কত টাকা দাঁড়ায়? আমরা যে সামান্য লাভ করি, সেটাও এভাবে নিয়ে যাচ্ছে।’
আরও পড়ুন
কোরবানির পশুর হাটগুলোতে চাঁদাবাজির অভিযোগ ঘিরে খামারিদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন স্থানে চাঁদার হিসাব নিয়ে খামারিদের সঙ্গে হাট কর্তৃপক্ষেরও বাগবিতণ্ডা হচ্ছে। আগে থেকেই ঘোষণা দেয়া আছে, গরু বিক্রি হলেই চাঁদার টাকা পরিশোধ করতে হবে।
তেজগাঁও গরুর হাটে সরাসরি চাঁদাবাজির ঘটনা দৃশ্যমান না হলেও গরুর দড়ি খুলে জায়গা দখলের মতো ঘটনায় নেপথ্যে চাঁদার ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে অভিযোগ খামারিদের। কেউ তালিকা তৈরির নাম করে, আবার কেউ সরাসরি ১০০০ টাকা দাবি করছে বলেও জানান তারা। ফলে অনেক ক্ষেত্রে চাঁদাবাজদের পরিচয় বদলে তারা ‘মার্কেট সদস্য’ হিসেবে কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
ডিএমপির ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় কাউকে চাঁদাবাজি করার জন্য রাস্তায় দাঁড়াতে দেয়া হবে না। কেউ যেন কোরবানির গরু নিয়ে কোনো ঝামেলায় না পড়ে, সে জন্য পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।’
আরও পড়ুন
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. নজরুল ইসলাম জানান, তাদের কাছে থাকা ১১০০ জন অপরাধীর তালিকার মধ্যে ১৯৫ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি এদের সহায়তাকারী আরও ৩৭৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গরুর হাটকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থেকে কাজ করছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতিবিদ, প্রশাসন ও ক্যাডারদের সমন্বয়ে একটি চাঁদার সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তাদের দাবি, শুধু ওপরের স্তর থেকে শুরু না করলে চাঁদাবাজি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়।
সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ের চাঁদাবাজদের পাশাপাশি যারা তাদের সহায়তা করছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।’





