তাদের অভিযোগ, কঠোর পরিশ্রম আর চড়া মূল্যের গো-খাদ্য খাইয়ে পশু প্রস্তুত করলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না। অন্যদিকে, দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যেও দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই মুখরিত হয়ে উঠছে বরগুনার পশুর হাটগুলো। বিশেষ করে বরিশাল বিভাগের অন্যতম বৃহৎ আমতলীর পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পা ফেলার যেন জায়গা নেই।
স্থানীয় খামারি ও সাধারণ বিক্রেতাদের পাশাপাশি দেশের দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা তাদের লালন-পালন করা পশু নিয়ে এসেছেন এই হাটে। এবারের হাটে বড় গরুর চেয়ে ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর সরবরাহ এবং চাহিদা—দুই-ই সবচেয়ে বেশি। হাটগুলো ক্রেতা-বিক্রেতায় জমজমাট হলেও বিক্রেতাদের মুখে হাসির চেয়ে চিন্তার রেখাই বেশি স্পষ্ট।
বরগুনার হেউলিবুনিয়া গ্রামের খামারি আব্বাস মিয়া জানান, এক বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম আর চড়া মূল্যের গো-খাদ্য খাইয়ে তিনি কোরবানির জন্য পশু প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু বাজারে আসার পর ক্রেতারা যে দাম হাঁকাচ্ছেন, তাতে উৎপাদন খরচ ওঠাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মতো অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিই এবার কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছর বরগুনা জেলায় কোরবানির পশুর মোট চাহিদা রয়েছে ৩০ হাজার ১৮২টি। এর বিপরীতে জেলায় কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে ৪০ হাজার ৭০৯টি। অর্থাৎ, স্থানীয় চাহিদার চেয়েও প্রায় ১০ হাজার ৫২৭টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান মনে করছেন, এ বাড়তি সরবরাহের কারণেই বাজারে পশুর দাম কিছুটা কম এবং এ নিয়ে ক্রেতাদের মাঝেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ দাম সাধ্যের মধ্যে বললেও, অনেকের মতে বিক্রেতারা প্রথমে দাম কিছুটা চড়া হাঁকাচ্ছেন।
এক নজরে বরগুনার পশুর হাট ও কোরবানি চিত্র
মোট পশুর হাট: ৪৬টি (স্থায়ী ১৭টি, অস্থায়ী ২৯টি)
কোরবানির পশুর চাহিদা: ৩০ হাজার ১৮২টি
প্রস্তুতকৃত পশুর সংখ্যা: ৪০ হাজার ৭০৯টি
উদ্বৃত্ত পশু: ১০ হাজার ৫২৭টি
দাম নিয়ে খামারি ও বিক্রেতাদের মাঝে অসন্তোষ থাকলেও, হাটের সার্বিক নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে পশু পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সবাই।
দূর থেকে আসা পাইকার ও বিক্রেতারা জানান, হাটে আসার পথে বা মহাসড়কে তাদের কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা হয়রানির শিকার হতে হয়নি। হাটের শৃঙ্খলা এবং সুনাম ধরে রাখতে ইজারাদাররাও বেশ তৎপর ভূমিকা পালন করছেন।
নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল কোরবানির লক্ষ্য নিয়ে মাঠ পর্যায়ে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে। প্রতিটি হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ এবং পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগের বিশেষ মেডিকেল টিম নিয়োজিত রয়েছে।





