হরমুজ প্রণালিতে স্থায়ী ‘টোল’ চালুর পরিকল্পনা ইরানের; মানছে না যুক্তরাষ্ট্র

ফ্রান্সে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আমিন-নেজাদ
ফ্রান্সে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আমিন-নেজাদ | ছবি: ব্লুমবার্গ
0

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর স্থায়ীভাবে শুল্ক বা ‘টোল’ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ইরান। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটির ওপর নিজেদের আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় তেহরান।

ফ্রান্সে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আমিন-নেজাদ ব্লুমবার্গকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ইরান ও ওমানের সব সম্পদ কাজে লাগানো উচিত। তিনি স্পষ্ট করে জানান, যারা এই জলপথ ব্যবহারের সুবিধা নেবে, তাদের অবশ্যই খরচের দায়ভার নিতে হবে। ব্লুমবার্গ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইরানের এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ও অবাধ দেখতে চাই; কোনো টোল আমরা চাই না।’

গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান এই জলপথটি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক পথে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে হাতেগোনা কয়েকটি জাহাজ চলাচল করছে, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় নগণ্য। আগে প্রতিদিন এখান দিয়ে প্রায় ১৩৫টি জাহাজ যাতায়াত করতো।

হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত একটি আন্তর্জাতিক জলপথ, যা দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয়। ইরান এখন এই এলাকায় নিজেদের এখতিয়ার বাড়িয়ে ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ নামে একটি নতুন সংস্থা গঠন করেছে।

কিছু ক্ষেত্রে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য প্রতিটি জাহাজের কাছ থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরান দাবি করেছে, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো তাদের জাহাজ চলাচলের জন্য এরই মধ্যে আইআরজিসির সঙ্গে সমন্বয় করছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব ইরানের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করছে। আমিরাতের প্রধান তেল কোম্পানির প্রধান সুলতান আল জাবের একে একটি ‘বিপজ্জনক নজির’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘একটি দেশ যদি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে জিম্মি করে ফেলে, তবে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা চিরতরে শেষ হয়ে যাবে।’

যদিও ইরানি রাষ্ট্রদূত দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও চাপ ইরানকে দমাতে পারবে না এবং তারা ভেনেজুয়েলার মতো পরিস্থিতির মুখে পড়বে না। বর্তমানে পাকিস্তান যুদ্ধের অবসানে মধ্যস্থতা করলেও হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ ইস্যুটি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এএম