নাইজেরীয় প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরের মুখপাত্র মেজর জেনারেল সামাইলা উবা বলেন, ‘১৯ মে পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রণক্ষেত্রে ১৭৫ জন আইএস সন্ত্রাসীকে নির্মূল করা হয়েছে। এই যৌথ হামলা আমাদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করেছে—যা হলো নাইজেরিয়ার যেখানেই সন্ত্রাসীরা থাকুক না কেন, তাদের খুঁজে বের করা এবং নির্মূল করা।’
এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আফ্রিকা কমান্ড (আফ্রিকম) জানিয়েছিল যে, তারা নাইজেরীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে গত রোববার কিছু হামলা চালিয়েছে। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ তিনুবু জানিয়েছেন, এই অভিযানে আইএসআইএলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আবু বিলাল আল-মিনুকি এবং তার বেশ কয়েকজন সহযোগী নিহত হয়েছে। আল-মিনুকি সাহেল ও পশ্চিম আফ্রিকা অঞ্চলে গোষ্ঠীটির প্রধান কার্যক্রম তদারকি করত।
এই সাফল্যের পর প্রেসিডেন্ট তিনুবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার ‘নেতৃত্ব ও অটল সমর্থনের’ জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি উভয় দেশের সামরিক সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সাহসের প্রশংসা করেন এবং দেশজুড়ে সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানাগুলোতে আরও কঠোর অভিযানের আশা ব্যক্ত করেন। নাইজেরীয় সামরিক বাহিনী আইএসের পশ্চিম আফ্রিকা শাখা ‘আইএসডব্লিউএপি’-র প্রোপাগান্ডা ও হামলা পরিকল্পনাকারী আবদ-আল ওয়াহাবসহ আরও দুই জ্যেষ্ঠ সদস্য নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর আইএসআইএল এখন আফ্রিকাকে তাদের মূল ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে। এক গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে গোষ্ঠীটির বিশ্বজুড়ে চালানো কর্মকাণ্ডের ৮৬ শতাংশই ছিল আফ্রিকা মহাদেশে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র নাইজেরিয়ায় উপদেষ্টা ও প্রশিক্ষক হিসেবে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিলেও সাম্প্রতিক এই যৌথ অভিযানগুলো দেশটিতে মার্কিন বাহিনীর সরাসরি ও সক্রিয় অংশগ্রহণেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।





