শেষ পাঁচ অর্থবছরে ক্রমাগত বাড়ছে প্রবাসী আয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দেড় মাস বাকি থাকতেই এই আয় দেশের ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। একক অর্থবছর হিসাবে ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। গেলো অর্থবছরে প্রবাসী আয় এসেছিল প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। এবারও মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীরা সর্বাধিক রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।
বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো, বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ে উৎসাহিত করতে প্রবাসীদের আড়াই শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গেলো অর্থবছর এ বাবদ প্রণোদনা দেয়া হয় ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রপ্তানি আয়সহ অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিম্নগামী হওয়া সত্ত্বেও রেমিট্যান্স রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘আমরা যে পরিমাণ পণ্য বিদেশে রপ্তানি করি, তার চেয়ে অধিক পরিমাণ পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকি। রাষ্ট্র এই গ্যাপ পূরণ করে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স থেকে।’
আরও পড়ুন:
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবাসী আয় সরাসরি উৎপাদনশীল খাতে খুব বেশি বিনিয়োগ না হলেও ভোগব্যয়ের কারণে পরোক্ষভাবে দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে প্রত্যক্ষ বিনিয়োগেও এই আয় কাজে লাগানো সম্ভব। সামান্য পুঁজি নিয়েও ফিরে আসা প্রবাসীদের প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ সহায়তা দেয়া গেলে বিনিয়োগে ইতিবাচক ফল আসবে।
অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, আমাদের ব্যাংক আছে এবং অন্যান্য যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান আছে, তারা যদি তাদেরকে ওই সময়টাতে এটার বিপরীতে লোন দেয় এবং সেটার দক্ষ বিনিয়োগ হলে— এটার একটা ইতিবাচক ফল আমরা পেতে পারি।’
প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বিনিয়োগে প্রবাসীদের উৎসাহিত করতে আলাদা অর্থনৈতিক জোন, প্রবাসী সিটিসহ বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ‘ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের জেলা শহরে প্রবাসী সিটি গড়ে তোলার একটা পরিকল্পনা আছে। সেখানে তারা বিনিয়োগ করতে পারবে। প্রবাসী যারা আছে, তাদের জন্য একটা আলাদা অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলা, যেখানে তারা বিনিয়োগ করবে। তো সেটার সব সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করে আমরা হয়তো সিদ্ধান্ত নেবো।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করতে হলে বিনিয়োগের নিরাপত্তা সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে।





