ট্রাম্প–শি বৈঠক: সফল দাবি করলেও ইরান ও তাইওয়ান নিয়ে কাটেনি দূরত্ব

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং | ছবি: রয়টার্স
0

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাদের শীর্ষ বৈঠককে ‘সফল’ বলে ঘোষণা করেছেন। তবে দুই বিশ্ব নেতার এই আলোচনায় ইরান ও তাইওয়ান ইস্যুতে পুরোনো মতভেদগুলো কাটেনি। তিন দিনের চীন সফর শেষে শুক্রবার ট্রাম্প বেইজিং ত্যাগ করেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে কৃষিপণ্য বিক্রির বিষয়ে বেশ কিছু চুক্তি হয়েছে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে বাণিজ্য পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের সংবেদনশীল নয় এমন পণ্য কেনাবেচার বিষয়েও একমত হয়েছে দুই দেশ। তবে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী এনভিডিয়ার উন্নত এআই চিপ বিক্রির বিষয়ে কোনো সুসংবাদ পাওয়া যায়নি।

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প জানান, চীন প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২০০টি বোয়িং বিমান কেনার ক্রয়াদেশ দিতে রাজি হয়েছে। যদিও বাজার বিশ্লেষকেরা ৫০০টি বিমানের ক্রয়াদেশ আশা করেছিলেন। এই খবর আসার পর বোয়িংয়ের শেয়ারের ৪ শতাংশ দরপতন হয়েছে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক চিম লি বলেন, কৌশলগতভাবে এই বৈঠক আশাব্যঞ্জক মনে হলেও বাস্তবে এর অর্জন সীমিত।

বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে ট্রাম্পকে বেইজিংয়ের সংরক্ষিত এলাকা ‘ঝংনানহাই’ কমপ্লেক্স ঘুরিয়ে দেখান শি জিনপিং। ট্রাম্প এই সফরকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে অভিহিত করলেও বৈঠকের ঠিক আগে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি কড়া বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে যে যুদ্ধ চলছে, তা কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না। এই যুদ্ধের কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং চীন শান্তি প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।

ঝংনানহাই কমপ্লেক্সে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ইস্যুতে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার চিন্তাভাবনা ‘খুবই কাছাকাছি’। তবে এ নিয়ে চীনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে দেখে। তাই তেহরানকে খুব বেশি চাপ দেয়ার সম্ভাবনা চীনের নেই বললেই চলে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ফেলো প্যাট্রিসিয়া কিম বলেন, ইরান ইস্যুতে চীন সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

ঝংনানহাই কমপ্লেক্সের গোপন বাগান পরিদর্শনের সময় একটি ‘হট মাইকে’ দুই নেতার আলাপচারিতা শোনা যায়। সেখানে ১ হাজার বছরের পুরোনো গাছ দেখে ট্রাম্প বিস্ময় প্রকাশ করেন। শি জিনপিং তাকে জানান, এই সংরক্ষিত এলাকায় বিদেশি অতিথিদের আসা অত্যন্ত বিরল। এর আগে শুধু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখানে আসার সুযোগ পেয়েছেন।

এএম