জাহাজ ডুবিয়ে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা ইরানের; মার্কিন পাল্টা অবরোধে রাজস্ব হারানোর শঙ্কা

হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি | ছবি: সংগ্রহীত
0

ভারতে আয়োজিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিয়ে যখন মার্কিন ‘দাদাগিরি’র বিরুদ্ধে বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, ঠিক তখনই ওমান উপকূলে ভারতের পতাকাবাহী একটি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। তেহরানের এই দ্বিমুখী আচরণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারত এই হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত ১৪ মে ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালিতে ‘হাজি আলী’ নামের ভারতের একটি কাঠের বাণিজ্যিক জাহাজ (ধো) হামলার শিকার হয়ে ডুবে যায়। জাহাজের ১৪ জন ক্রু সদস্যকে ওমান কোস্টগার্ড উদ্ধার করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত ও উসকানিমূলক হামলা।

ইরানের সামরিক মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া সংবাদ সংস্থা ইসনাকে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ দেশের জন্য বিপুল অর্থনৈতিক রাজস্ব বয়ে আনবে। এটি আমাদের তেল আয় দ্বিগুণ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব বাড়াতে সহায়তা করবে।’

তবে পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই কৌশল টেকসই হবে না। তেহরান যখন জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে কূটনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে, তখন গত ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া মার্কিন ‘পাল্টা অবরোধ’ তাদের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিচ্ছে। যুদ্ধের আগে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৬০ থেকে ৬৩ ডলার থাকলেও এখন তা ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এর ফলে ইরান তেল বিক্রি থেকে সাময়িকভাবে লাভবান হলেও মার্কিন অবরোধের কারণে এরই মধ্যে দেশটি ৫০০ কোটি ডলারের বেশি রাজস্ব হারাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন অবরোধের কারণে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে ইরান সরকার কোনো অর্থই পাচ্ছে না। ইরানের কৌশল হলো হরমুজ প্রণালিকে কাজে লাগিয়ে ‘অপ্রতিসম যুদ্ধ’ (অ্যাসিম্যাট্রিক ওয়ারফেয়ার) চালিয়ে যাওয়া। তারা ছোট নৌকা, মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সরাসরি বড় যুদ্ধে না জড়িয়েই বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।

লন্ডনভিত্তিক থিংক ট্যাংক চ্যাথাম হাউস বলছে, বাণিজ্যিক জাহাজে ক্রমাগত হামলা বিশ্ব সম্প্রদায়কে ইরানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। এতে কূটনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স-এর মতে, জাহাজ চলাচলে একতরফা নিয়ন্ত্রণ আরোপ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন লঙ্ঘন এবং এটি তেহরানের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক মূল্য আদায়ের কারণ হতে পারে।

বিশ্বের তেলের বাজার ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হরমুজ প্রণালি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। এই সরু জলপথটি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান যদি এই পথকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দীর্ঘমেয়াদী সামরিক প্রহরা এবং পাল্টা অবরোধের মাধ্যমে তেহরানকে আরও কোণঠাসা করে ফেলবে।

এএম