মাত্র কয়েকদিন আগে নাগরিকদের আগামী অন্তত এক বছরের জন্য স্বর্ণ কিনতে বারণ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এর জের ফুরোবার আগেই, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাঁচাতে বিদেশে ছুটি কাটানো এবং দেশের বাইরে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে বিরত থাকারও আবেদন জানান মোদি।
দেখা যাচ্ছে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একের পর এক জরুরি ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নিচ্ছে মোদি সরকার। গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে জনসচেতনতা ও বিধিনিষেধের ওপর।
এরই মধ্যে, দিল্লিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা ঘরে বসে কাজ করার নিয়ম চালু করা হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এটি অনুসরণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়াও জ্বালানি সাশ্রয়ে নিজস্ব গাড়িবহর ৬০ শতাংশ কমিয়ে ৪টিতে নামিয়ে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আরও জানিয়েছেন এই চারটি গাড়ির মধ্যে দুটি হবে বিদ্যুৎচালিত।
আরও পড়ুন:
এছাড়াও সপ্তাহিক ছুটির দিন শেষে প্রথম কর্মদিবস সোমবারকে মেট্রো দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতি সোমবার সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী ছাড়াও মেট্রোতে যাতায়াত করবেন মন্ত্রীরা। এছাড়াও দেশবাসীকে সপ্তাহের একটি দিন যানবাহনে চড়া থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পাশাপাশি, আগামী ছয় মাস সরকারি পর্যায়ে নতুন কোনো পেট্রোল বা ডিজেল চালিত গাড়ি কেনা বন্ধ রাখা হয়েছে। এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর।
আর, বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের জন্য সোনা ও রুপা আমদানির ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে যাতে রুপির মান স্থিতিশীল থাকে।
এছাড়াও তেলের মজুদ নিয়েও পরিকল্পনা আছে নয়াদিল্লির। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, আপাতত ২ মাসের অপরিশোধিত তেল আর দেড় মাসের গ্যাস মজুত আছে দেশটিতে। কৌশলগত তেল ভাণ্ডার সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ওড়িশা এবং কর্ণাটকের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভের দ্বিতীয় ধাপের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, জ্বালানি সংকটের কারণে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে ভারতের বিমান খাত। ঢাকাসহ ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন রুটে প্রায় ৪শ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সবচেয়ে বড় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। একই সঙ্গে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট সংখ্যা কমানো বা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সংস্থাটি। বিশেষ করে, দিল্লি-সাংহাই, চেন্নাই-সিঙ্গাপুর, মুম্বাই-ঢাকা এবং দিল্লি-মালে রুট আগস্টের শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তবে, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে বুকিং, বিনা খরচে তারিখ পরিবর্তন বা পূর্ণ অর্থ ফেরতের সুযোগ দেয়া হবে।





