দরুদে ইব্রাহিমের ফজিলত: ১০টি বিশেষ নেয়ামত ও অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ

দরুদে ইব্রাহিম
দরুদে ইব্রাহিম | ছবি: এখন টিভি
0

উম্মতের প্রতি নবীজির ছিল গভীর মায়া, সীমাহীন মমতা ও ভালোবাসা। তিনি উম্মতের ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি চাইতেন। ‘দরুদ’ একটি ফার্সি শব্দ যা ১৭শ শতাব্দীতে বাংলা ভাষায় অঙ্গীভূত হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ এবং রহমত ও বরকত লাভের মাধ্যম (Durood-e-Ibrahim Benefits)।

বিষয় (Subject) বিস্তারিত তথ্য (Details)
কোরআনের নির্দেশ সুরা আহজাব, আয়াত ৫৬
প্রধান ফজিলত ১০টি রহমত লাভ ও ১০টি গুনাহ মাফ
নামাজে বিধান সুন্নতে মুআক্কাদা (ইমাম আবু হানিফার মতে)
অন্যতম ফলাফল কিয়ামতের দিন নবীজির শাফাআত লাভ

আরও পড়ুন:

পবিত্র কোরআনে দরুদ পাঠের নির্দেশ (Quranic Instruction)

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ নবীর প্রশংসা করেন এবং তার ফেরেশতাগণ নবীর জন্য রহমতের দোয়া করেন। সুতরাং হে মুমিনগণ, তোমরাও তার প্রতি দরুদ পড়ো এবং অধিক পরিমাণে সালাম পাঠাও’ (সুরা আহজাব: ৫৬)।

দরুদে ইব্রাহিম: আরবি, উচ্চারণ ও অর্থ (Durood-e-Ibrahim Text & Meaning)

নামাজের মধ্যে দরুদে ইব্রাহিম পাঠ করা সুন্নতে মুআক্কাদা এবং এটি যেকোনো সময় পাঠ করা যায়।

আরবি: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ، وَعَلَىٰ آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَىٰ آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ. اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ، وَعَلَىٰ آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَىٰ آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ.

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহিমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা ইব্রাহিমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।

বাংলা অনুবাদ: হে আল্লাহ, মুহাম্মদ (সা.) ও তার পরিবারবর্গের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম (আ.) ও তার পরিবারবর্গের ওপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমাময়। হে আল্লাহ, মুহাম্মদ (সা.) ও তার পরিবারবর্গের ওপর বরকত দান করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম (আ.) ও তার পরিবারবর্গের ওপর বরকত দান করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমাময় (সুনানে নাসায়ি: ১২৯১)।

আরও পড়ুন:

তাফসিরের আলোকে তাৎপর্য ও বিধান (Significance and Rulings)

সালাত ও সালাম: আল্লাহর পক্ষ থেকে দরুদ মানে নবীর প্রতি করুণা, আর বান্দার পক্ষ থেকে দরুদ হলো নবীর জন্য মর্যাদা ও দোয়া চাওয়া। সালাম হলো নবীর প্রতি শান্তি পাঠানো।

আলে মুহাম্মদ কারা: নবীজির আদর্শের অনুসারী কিয়ামত পর্যন্ত যারা হবেন, তারা এর অন্তর্ভুক্ত।

বিধান: ইমাম শাফেয়ির মতে নামাজের শেষ তাশাহুদে দরুদ পড়া ফরজ। ইমাম আবু হানিফা ও মালেকের মতে সমগ্র জীবনে একবার দরুদ পড়া ফরজ, তবে নামাজে পড়া সুন্নত।

দরুদ পাঠের ১০টি বিস্ময়কর ফজিলত (10 Amazing Benefits)

১. দশটি রহমত: একবার দরুদ পড়লে আল্লাহ ১০টি রহমত নাজিল করেন।

২. গুনাহ মাফ: ১০টি গুনাহ মাফ হয় এবং ১০টি মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

৩. ফেরেশতাদের দোয়া: ফেরেশতারা অনবরত পাঠকারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

৪. শাফাআত লাভ: কিয়ামতের দিন নবীজির সুপারিশ অবধারিত হয়ে যায়।

৫. নবীজির নৈকট্য: বেশি দরুদ পাঠকারী কিয়ামতের দিন নবীজির সবচেয়ে কাছে থাকবে।

৬. মকসুদ হাসিল: সকল জাগতিক ও পারলৌকিক চিন্তা দূর হয় এবং গুনাহ মাফ হয়।

৭. সদকার সওয়াব: সামর্থ্যহীনদের দরুদ পাঠ সদকা হিসেবে গণ্য হয়।

৮. সালাম পৌঁছানো: ফেরেশতারা সালাম সরাসরি রওজায় পৌঁছে দেন।

৯. দোয়া কবুল: দরুদবিহীন দোয়া আসমান ও জমিনের মাঝে ঝুলন্ত থাকে।

১০. জান্নাতের পথ: দরুদ পাঠকারীর জন্য জান্নাতের পথ সুগম হয়।

সংক্ষিপ্ত দরুদসমূহ (Short Durood)

اللّٰهُـــمَّ صَـــلِّ عَلَــــى مُحَمَّــــد

উচ্চারণ: আল্লহুম্মা সল্লি আ’লা মুহাম্মাদ।

অর্থ: হে আল্লাহ! দয়া ও রহমত কর আমাদের সরদার ও নেতা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি।

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّاَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

উচ্চারণ: আল্লহুম্মা সল্লি আ’লা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আনঝিল হুল মাক্ব’আদাল মুক্বার্‌রবা ই’ন্দাকা ইয়াওমাল ক্বিয়ামাহ্‌।

অর্থ: হে আল্লাহ! কিয়ামতের দিন তুমি তাকে তোমার নিকটতম স্থানে অধিষ্ঠিত কর।

صلى الله تعالى عليه وسلم

উচ্চারণ: সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

আরও পড়ুন:

এসআর