যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘বিপজ্জনক সামরিক হঠকারিতা’র অভিযোগ ইরানের

আব্বাস আরাঘচি
আব্বাস আরাঘচি | ছবি: সংগৃহীত
0

যখনই কোনো ‘কূটনৈতিক সমাধান’ সামনে আসে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র ‘বিপজ্জনক সামরিক হঠকারিতা’র পথ বেছে নেয় বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। হরমুজ প্রণালিতে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং ইরানি জাহাজে মার্কিন বাহিনীর গুলিবর্ষণের পর তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরানিরা কখনো চাপের মুখে মাথানত করবে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এটি কি কেবলই চাপের কৌশল, নাকি কোনো ‘ষড়যন্ত্রকারীর’ উসকানিতে পড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও চোরাবালিতে পা দিচ্ছেন?

হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে সংঘাতের ঘটনা ঘটলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যেই এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছিল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, শুক্রবার মার্কিন প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে সাড়া দেয়ার কথা ছিল। বর্তমানে ইতালি সফরে থাকা রুবিও আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ চলায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার ওমান উপসাগরে অবরোধ লঙ্ঘন করে ইরানি বন্দরে প্রবেশের চেষ্টাকালে দুটি ট্যাংকারকে অকেজো করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। নিখুঁত লক্ষ্যভেদী গোলাবারুদ ব্যবহার করে জাহাজ দুটির ধোঁয়া নির্গমন পথ বা চিমনি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে, যাতে সেগুলো বন্দরে ভিড়তে না পারে। সেন্টকম আরও জানিয়েছে, বর্তমানে ৭০টির বেশি ট্যাংকারকে ইরানি বন্দরে ঢুকতে বা বের হতে বাধা দিচ্ছে তাদের বাহিনী।

এদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত বন্ধে আগামী সপ্তাহে নতুন দফার আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ ও ১৫ মে এই নিবিড় আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হিজবুল্লাহর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের দাবি জানালেও শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীটি তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

এরই মধ্যে ওয়াশিংটনে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। সেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়। কাতারের প্রধানমন্ত্রী সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের মূল কারণ খুঁজে বের করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।

হরমুজ প্রণালির সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে। সেন্টকমের দাবি, ইরান উসকানি ছাড়াই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। অন্যদিকে ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র একটি তেল ট্যাংকারসহ উপকূলীয় এলাকায় আকাশপথে হামলা চালিয়েছে।

দক্ষিণ হরমুজগান প্রদেশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মিনাব উপকূলের কাছে একটি কার্গো জাহাজে হামলার ঘটনায় ১০ জন নাবিক আহত হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পোস্টে দাবি করেছেন, তার বাহিনী ইরানের অনেক ড্রোন ও ছোট নৌকা ধ্বংস করেছে। দ্রুত চুক্তিতে না এলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

এএম