একের পর এক ব্যাংকে তালা। এ চিত্র বন্দর নগরী চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকার। সোমবার পর্যন্ত চট্টগ্রামের এ এলাকার সম্মিলিত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের পাঁচটি ব্রাঞ্চ এবং খাতুনগঞ্জে আরও চারটি ব্রাঞ্চে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন একদল জনতা।
নিজেদের আমানতকারী দাবি করা এসব আন্দোলনকারীর অভিযোগ, সম্মিলিত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের ৭৫ লাখ আমানতকারীর জমা রয়েছে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। বার বার টাকা ফেরত চেয়েও না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে ব্রাঞ্চে তালা দেন তারা।
তবে ব্রাঞ্চে তালা দেয়ার ঘটনায় কেবল চট্টগ্রামে নয়, গোটা ব্যাংক খাতে পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, সাধারণ মানুষের আস্থা তৈরি করতে হলে দ্রুতই ব্যবস্থা নিতে হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে।
অর্থনীতি বিশ্লেষক মাজেদুল হক বলেন, ‘এই বিক্ষোভের মাধ্যম দিয়ে সামনের দিনে ব্যাংকিং খাতে আস্থাহীনতা সৃষ্টি হবে, অর্থনীতি চাঙ্গা হবে না, আবগারি শুল্ক আদায় হবে না, ভ্যাট আদায় হবে না, আয়কর আদায় হবে না ব্যাংকিং খাত থেকে। এতে কর-জিডিপি অনুপাতও কমে যাবে।’
আরও পড়ুন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসাইন সিদ্দিক বলেন, ‘কোনো এলাকায় যদি শোনে কোনো ব্যাংকের দুটি ব্রাঞ্চ বন্ধ করে দিয়েছে, তখন অন্য এলাকার মানুষ মনে করে, আমাদেরগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। তখন কিন্তু মানুষ ওই ব্যাংক থেকে টাকা উঠাতে থাকে, ডিপোজিট কমতে থাকে। অর্থাৎ ব্যাংক তখন সার্বিকভাবে একটা লিকুইডিটি ক্রাইসিসের দিকে ধাবিত হয়।’
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— আন্দোলনকারীরা যখন দুই দিন ধরে একের পর এক ব্যাংকের ব্রাঞ্চে তালা ঝুলিয়ে দিচ্ছেন, তখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা কি? কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলছেন, ব্যাংকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। পাশাপাশি আর কোনো ব্যাংকে যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেজন্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পরামর্শও চেয়েছে ব্যাংক খাতের এ অভিভাবক প্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই বিষয়টা দেখবেন যে, কোনো বৈধ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান যাতে দিনে দুপুরে বা যেকোনো সময় হোক, কোনো গ্রাহক সেখানে যেন তালা দেয়ার সুযোগ না পায়। আজকে দেশের এক জায়গায় হয়েছে, কাল অন্য জায়গাতেও হতে পারে—এভাবে শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার কোনো সুযোগ আমরা দিতে চাই না।’
এ যখন অবস্থা, তখন এস আলমের লুটপাটে খাদের কিনারায় দাঁড়ানো এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।





