তৃণমূলের মা-মাটি-মানুষ আর মাছ ভাতের রাজনীতির বিপরীতে বিজেপির অতি রামভক্তি। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির প্রধান দুই শক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস আর কেন্দ্রীয় ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে থাকা বিজেপি।
জাতীয় কংগ্রেস- যুক্তফ্রন্টের পর বামফ্রন্টের রেকর্ড ৩৪ বছরের শাসনামল পেড়িয়ে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসে মমতা নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। ১৫ বছরে দিদির ভিত টলানো না গেলেও অন্তত শেষ দুই দফা নির্বাচনে নিজেদের অস্তিত্বের জানা দিয়েছে গেরুয়া শিবির। সবশেষ ২০২১ সালে বিজেপি প্রধান বিরোধী দল নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তাই কিছুটা চাপেই আছে মমতার সরকার।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান মূলত শুরু হয় ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে। যদিও ২০১১ ও ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ধোপে টেকেনি। এরপর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন জেতার পর থেকে তৃণমূলের সমকক্ষ শক্তি হিসেবে টক্কর দিতে শুরু করে গেরুয়া শিবির।
ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাস বলছে, ২০২১ সালের নির্বাচন ছিল পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ লড়াই, তৃণমূল বনাম বিজেপি দ্বৈরথ নতুন মাত্রা যোগ করে রাজ্যের রাজনীতিতে।
আরও পড়ুন:
শেষ ৩ দফার বিধানসভা নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১১ সালে ২২৫ আসন নিয়ে বামফ্রন্টকে ৬২ আসনে আটকে দেয় তৃণমূল। সে বছর একটিও আসন পায়নি বিজেপি। এরপর ২০১৬ সালে ২১১ আসন জয় পায় তৃণমূল। ৩টি আসনে বিজেপি জিতলেও ৭৭ আসন নিয়ে বিরোধী দলে আসে কংগ্রস ও বাম জোট। হিসাব বদলে যায় ২০২১ সালে। তৃণমূলের ২১৩ আসনের বিপরীতে বিজেপি জেতে ৭৭ আসনে। ১৯৪৭ সালের পর প্রথমবার প্রধান বিরোধী দলে হয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করে গেরুয়া শিবির। কার্যত শূন্য হয়ে পড়ে বাম-কংগ্রেস জোট।
ফলে এখন তৃণমূল যেমন তার শাসন ধরে রাখতে মরিয়া, তেমনি নিজেদের প্রধান বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বিজেপিও।
এদিকে, তৃণমূল-বিজেপি দ্বৈরথের আলোচনায় আছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর এক নাটকীয় অধ্যায়। এক সময়ের গুরু-শিষ্য সম্পর্কের এই দুই নেতার লড়াই-এর দিকে তাকিয়ে আছে পশ্চিমবঙ্গে মানুষ।
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের টিকিটে নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হন এবং পরে মমতা মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হন। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে শুভেন্দু তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মাত্র ১,৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেন। ২০২৬ এ এসেছে নতুন মাত্রা, নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মমতার গড় হিসেবে পরিচিত ভবানীপুরেও তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন শুভেন্দু।





