নিসাব বা সম্পদের পরিমাণ (Nisab or Amount of Wealth)
শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য সম্পদের নিসাব হলো— সাড়ে ৭ তোলা সোনা অথবা সাড়ে ৫২ তোলা রুপা কিংবা সমমূল্যের নগদ অর্থ বা সম্পদ।
১. স্বর্ণের নিসাব (Nisab of Gold): যদি কেউ সোনাকে মানদণ্ড ধরেন, তবে সাড়ে ৭ তোলা সোনার বাজারদর অনুযায়ী বর্তমানে প্রায় ৪ লাখ টাকা (মানভেদে ভিন্ন হতে পারে) মালিকানায় থাকলে কোরবানি দেওয়া আবশ্যক।
২. রুপার নিসাব (Nisab of Silver): যদি কেউ রুপাকে মানদণ্ড ধরেন, তবে সাড়ে ৫২ তোলা রুপার বাজারদর অনুযায়ী সর্বনিম্ন প্রায় ৫০ হাজার টাকা থাকলেও তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।
আরও পড়ুন:
কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্তসমূহ (Conditions for Qurbani to be Obligatory)
মালিকানার সময়সীমা: যাকাতের মতো কোরবানি আবশ্যক হওয়ার জন্য সম্পদ এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়; বরং জিলহজ মাসের ওই তিন দিন মালিকানায় থাকলেই হবে।
ব্যক্তিগত অবস্থা: সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক, মুসলিম এবং ঋণমুক্ত হতে হবে।
মুসাফিরের বিধান: যে ব্যক্তি কমপক্ষে ৪৮ মাইল সফরের নিয়তে এলাকা ত্যাগ করেছেন (মুসাফির), তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়।
নাবালেগ ও পাগল: নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেও নাবালেগ বা পাগলের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়।
নিসাবের মাধ্যম (Nisab Type)
পরিমাণ (Quantity)
সম্ভাব্য বাজারমূল্য (Market Value)
স্বর্ণ/সোনা (Gold)
সাড়ে ৭ তোলা / ভরি
৩,৭১,০০০ - ৫,৪০,০০০ টাকা
রৌপ্য/রুপা (Silver)
সাড়ে ৫২ তোলা / ভরি
৪৮,৯০০ - ৭৯,৫০০ টাকা
নগদ টাকা (Cash)
উপরিউক্ত সমমূল্য
৫০,০০০ - ৪,০০,০০০ টাকা (গড়)
আরও পড়ুন:
কোরবানির নিসাব ও মাসআলা সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর-FAQ
প্রশ্ন: কোরবানি কি সবার ওপর ফরজ?
উত্তর: না, কোরবানি সবার ওপর ফরজ নয়; বরং শরীয়ত নির্ধারিত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।
প্রশ্ন: কত টাকা থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হয়?
উত্তর: যদি কারও কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের অতিরিক্ত সাড়ে ৫২ তোলা রুপার বাজারমূল্য (বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু) থাকে, তবে তাঁর ওপর কোরবানি ওয়াজিব।
প্রশ্ন: কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য কি সম্পদের ওপর এক বছর অতিবাহিত হতে হয়?
উত্তর: না, যাকাতের মতো এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়; জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের মধ্যে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই কোরবানি ওয়াজিব।
প্রশ্ন: সাড়ে ৭ তোলা সোনা থাকলে কি কোরবানি দিতে হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, সাড়ে ৭ তোলা সোনা বা তার সমমূল্যের (প্রায় ৪ লাখ টাকা বা তার বেশি) নগদ অর্থ জিলহজ মাসের নির্দিষ্ট দিনে মালিকানায় থাকলে কোরবানি দেওয়া আবশ্যক।
প্রশ্ন: ঋণী ব্যক্তির ওপর কি কোরবানি ওয়াজিব?
উত্তর: যদি ঋণ পরিশোধ করার পর উদ্বৃত্ত সম্পদ নিসাব পরিমাণ না থাকে, তবে সেই ব্যক্তির ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়।
প্রশ্ন: মুসাফির বা ভ্রমণকারীর ওপর কি কোরবানি ওয়াজিব?
উত্তর: না, যে ব্যক্তি কমপক্ষে ৪৮ মাইল সফরের নিয়তে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে, তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়।
প্রশ্ন: নাবালেগ বা শিশু যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তবে তার বিধান কী?
উত্তর: নাবালেগ শিশু বা পাগলের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, তবে অভিভাবক চাইলে তাদের পক্ষ থেকে কোরবানি দিতে পারেন।
প্রশ্ন: কোরবানি না দিলে কি গুনাহ হয়?
উত্তর: যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব, তিনি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে তা আদায় না করেন, তবে ওয়াজিব তরকের কারণে তিনি গুনাহগার হবেন।
প্রশ্ন: পরিবারের সবার পক্ষ থেকে কি একটি কোরবানি যথেষ্ট?
উত্তর: না, পরিবারের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য যারা পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক, তাদের প্রত্যেকের ওপর আলাদাভাবে কোরবানি ওয়াজিব।
প্রশ্ন: রুপার নিসাব কেন ধরা হয়?
উত্তর: গরিবদের উপকারের কথা চিন্তা করে রুপার নিসাবকে (নিম্নতম নিসাব) মানদণ্ড ধরা হয়, যাতে বেশি মানুষ কোরবানির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
প্রশ্ন: ব্যবসা বা প্রাইজবন্ডের টাকা কি কোরবানির নিসাবে গণ্য হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, নগদ টাকা, ব্যবসার পণ্য, প্রাইজবন্ড এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত যেকোনো সম্পদ কোরবানির নিসাবে যুক্ত হবে।
প্রশ্ন: কোরবানি করার সঠিক সময় কোনটি?
উত্তর: ১০ই জিলহজ ঈদের নামাজের পর থেকে ১২ই জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোরবানি করা যায়।
প্রশ্ন: ১০ই জিলহজ মুসাফির ছিলাম কিন্তু ১২ই জিলহজ মুকিম হয়েছি, বিধান কী?
উত্তর: কোরবানির তিন দিনের শেষ সময়ে যদি কেউ মুকিম (নিজ এলাকায় অবস্থানকারী) থাকে এবং নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, তবে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।
প্রশ্ন: কোরবানি কি কেবল টাকা থাকলেই দিতে হবে?
উত্তর: কেবল নগদ টাকা নয়, বরং সোনা, রুপা, ব্যবসার মাল এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে নিসাব পূর্ণ হলেও কোরবানি দিতে হবে।
প্রশ্ন: রুপার নিসাব অনুযায়ী সর্বনিম্ন কত টাকা থাকলে কোরবানি আবশ্যক?
উত্তর: রুপার বাজারদর অনুযায়ী সর্বনিম্ন প্রায় ৪৮,৯৮২ টাকা থেকে ৭৯,৫৯০ টাকার (মানভেদে) মালিক হলে কোরবানি ওয়াজিব হতে পারে।




