৬ মাসেও স্বাভাবিক হয়নি কার্গো ভিলেজ; অব্যবস্থাপনায় নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার পণ্য

কার্গো ভিলেজের অপেক্ষায় ব্যবসায়ীরা
কার্গো ভিলেজের অপেক্ষায় ব্যবসায়ীরা | ছবি: এখন টিভি
0

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও সেখানে চলছে অব্যবস্থাপনা। কর্তৃপক্ষের অযত্নে-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে, কোটি টাকার মালামাল। সময়ক্ষেপণ হচ্ছে পণ্য ডেলিভারিতেও। ভুক্তভোগী কাস্টম এজেন্টদের অভিযোগ থাকলেও কথা শোনার মতো নেই কেউই।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ অগ্নিকাণ্ডের পেরিয়েছে ছয় মাসেরও বেশি সময়। তবে এখনো কাটেনি পণ্য খালাসের জটিলতা।

ঝড়-বৃষ্টির দিনে খোলা আকাশের নিচে পণ্য ডেলিভারিতে বাড়ছে ভোগান্তি। নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার মালামাল। পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থা, স্ক্যানার মেশিন না থাকাসহ সিভিল অ্যাভিয়েশন ও বিমান বাংলাদেশের এ অব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই কাস্টম এজেন্টদের।

পণ্য নিতে আসা একজন বলেন, ‘বিমান ও সিভিল এভিয়েশনের কারণে আমারদের লাখ লাখ টাকা পণ্য ভিজতেছে যা ফলে অনেক ক্ষতি হচ্ছে।’

প্রথমতো বিমান বিকেল ৫টার পর আর কোনো সার্ভিস দেয় না। তারপর বিভিন্ন ঝটিলতা আছে বলে জানান পণ্য নিতে আসা ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন

যে ব্যবসায়ীদের স্বপ্নের সঙ্গে কোটি কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই, তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন নিজ নিজ ক্ষেত্রে। তবে ক্ষোভ রয়েছে সরকারি কোনো পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়া নিয়ে।

বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘মালামাল পুড়ে যে ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে তার কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। না পাওয়ার কারণ বাংলাদেশের ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলো তৈরি হয়েছে একটি অনৈতিক পন্থার ওপরে। তখন এ শর্ত, ওই শর্ত আবিষ্কার হয়। ফলে আমাদের কেউই শর্তের বেড়া জালে পরে ইনস্যুরেন্স পাওয়া হয়নি।’

এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অভিযোগ, পণ্য জটিলতার জন্য রয়েছে কাস্টম এজেন্টদের গাফিলতি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিমানে সক্ষমতা আছে ২৪ ঘণ্টাই ডেলিভারি দিতে পারি। কিন্তু আমাদেরকে ডেলিভারি দিতে হবে সিঅ্যান্ডএফের এজেন্টের উপস্থিতিতে। এমনকি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে সব সময় পাওয়া যায় না।’

দ্রুত ডেলিভারি সম্পন্ন করতে সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বিঘ্নভাবে কাজ চলছে বলছে ঢাকা কাস্টমস হাউজের জয়েন্ট কমিশনার মো. কামরুল হাসান।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বসেছি যাতে করে পণ্য সন্ধ্যা ৮টা অব্দি খালাসের ব্যবস্থা করা যায়। আর এ জন্য আমরা একমত হয়েছি আশা করি আর এ সমস্যা থাকবে না।’

ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা বা পণ্য খালাসের জটিলতা দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চান সংশ্লিষ্টরা।

জেআর