জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। অপরদিকে ছিনতাই হওয়া অস্ত্রটিও অভিযান চালিয়ে উদ্ধারের কথা জানান নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও মিডিয়া অফিসার) তারেক আল মেহেদি।
পুলিশ জানায়, রাত আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে বন্দর থানার মদনগঞ্জ ফাঁড়ির এএসআই সোহেল, কনস্টেবল ফয়সাল ও কনস্টেবল মিজানুরকে নিয়ে টহল ডিউটিতে ছিলেন। এসময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে প্রাপ্ত কলের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, বন্দর চৌধুরী বাড়ি এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
খবর পেয়ে এএসআই সোহেল সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে ভুক্তভোগী সিফাত, সুফিয়ান ও তানভিরের সঙ্গে কথা বলে পাশের একটি সন্দেহজনক বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে অবস্থানরত ছিনতাইকারীরা দেশিয় অস্ত্র নিয়ে এলোপাথাড়ি হামলা চালায়।
আরও পড়ুন:
এসময় এএসআই সোহেলের পায়ে এবং কনস্টেবল ফয়সালের পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর গুরুতর জখম হয়। হামলার এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা পুলিশের ব্যবহৃত একটি শটগান ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে আহতদের দ্রুত বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেয়া হলে কনস্টেবল ফয়সালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এএসআই সোহেলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোহান (২৪) নামে একজনকে আমরা থানায় এনেছি। পাশাপাশি অভিযান চালিয়ে আজ (শুক্রবার, ১ মে) ভোরে ঘটনাস্থলের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পুলিশের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া অস্ত্রটিও উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ ভোরে পৌনে ৬টায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানার শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই লুৎফর রহমানের কাছ থেকে ইউনিফর্ম পড়া অবস্থায় তিন দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে তার সঙ্গে থাকা পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। এসময় তাকে মারধরও করা হয়। ঘটনার পরদিন গভীর রাতে বন্দর উপজেলার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পুলিশের ছিনতাই হওয়া অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ওই সময় নারায়ণগঞ্জের সদর এলাকার দেওভোগ এবং ফতুল্লা থানা এলাকা হতে মিশাল (৩১), ফরহাদ আহম্মেদ (২৩) এবং হাসান (২১) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে এএসআই লুৎফর রহমানকে শীতলক্ষ্যা ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
আরও পড়ুন:
এদিকে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের ওপর বারবার হামলা ও অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনাকে বিশ্লেষকরা একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে দেখছেন। যেখানে সংগঠিত অপরাধ চক্রের সাহস বেড়ে যাওয়া, মাদক ও চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটের প্রভাব, এবং ‘মব কালচার’ বা দলবদ্ধ প্রতিরোধ বড় ভূমিকা রাখছে বলে তারা মনে করেন। অনেকক্ষেত্রে পুলিশ পর্যাপ্ত প্রস্তুতি বা ব্যাকআপ ছাড়া অভিযানে গেলে তারা সহজ টার্গেটে পরিণত হচ্ছে, একইসঙ্গে আইনের ভয় কমে যাওয়া ও দ্রুত শাস্তির অভাব হামলাকারীদের আরও উৎসাহিত করছে।
কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ও এই ধরনের ঘটনার পেছনে কাজ করছে বলে ধারণা করা হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই শুধু একটি হামলার ঘটনা নয় বরং এটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অভিযানের সময় বাড়তি ফোর্স ও শক্তিশালী ব্যাকআপ নিশ্চিত করা, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, দ্রুত বিচার ও দৃশ্যমান শাস্তি কার্যকর করা এবং কমিউনিটি ও পুলিশের সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।





