প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মনে করে যে ‘ধৈর্যের একটি সীমা আছে’। যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালিতে তাদের ‘অবৈধ’ নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখে, তবে তেহরান ‘শাস্তিমূলক জবাব’ দিতে বাধ্য হবে। ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, ‘ওয়াশিংটন যদি তাদের ‘‘হঠকারিতা ও বিভ্রান্তি’’ বজায় রাখে এবং ইরানের দেয়া শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করে, তবে খুব শিগগির শত্রুপক্ষকে এই নৌ-অবরোধের জন্য একেবারেই ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।’
এদিকে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি জাহাজ জব্দের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির-সাঈদ ইরাভানি। দেশটির আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ’ জানিয়েছে, জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইরাভানি একে ‘অবৈধ জবরদস্তি ও বৈধ বাণিজ্যে হস্তক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি মার্কিন পদক্ষেপকে সরাসরি ‘সামুদ্রিক জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দেন।
সম্প্রতি ডিস্ট্রিক্ট অফ কলাম্বিয়ার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনিন পিরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে স্বীকার করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ‘এমটি ম্যাজেস্টিক’ এবং ‘এমটি টিফানি’ নামে দুটি জাহাজ জব্দ করেছে। পিরো আরও জানান, ওই জাহাজ দুটি থেকে ৩৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল ‘ছিনিয়ে’ নিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
গত ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে এই কড়া নৌ-অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালালে সংঘাত শুরু হয়, যাতে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা শহিদ হন। এরপর দীর্ঘ ৪০ দিনের লড়াই শেষে গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে নৌ-অবরোধ কেন্দ্র করে বর্তমানে দুই দেশের উত্তেজনা নতুন করে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।





