এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে ডব্লিউটিআই ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছে ১১১ ডলারে। যুদ্ধের আগে এসব তেলের দাম অনেক কম ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪ ডলার ১৮ সেন্টে, যা গত ফেব্রুয়ারিতেও ছিল ২ ডলার ৯২ সেন্ট।
সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ ফেলো রেচেল জিয়েম্বা বলেন, ‘আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে কোনো সমাধানের আশা ক্ষীণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন অর্থনীতি অন্য অনেক দেশের তুলনায় শক্তিশালী হলেও দিনশেষে তেলের এই অস্বাভাবিক দামের প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়বে।’
এর মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক জোট ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও আমিরাত বেশি তেল উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে জোট ছেড়েছে, কিন্তু হরমজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সেই তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছানো এখনই সম্ভব হচ্ছে না। অক্সফোর্ড ইকোনমিকস জানিয়েছে, জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় চলতি বছর বিশ্ব জিপিডি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশ করা হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, যদি দ্রুত কোনো যুদ্ধবিরতি হয়ও, তবুও জ্বালানি উৎপাদন ও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগবে।
এদিকে চলমান যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাতেও। রয়টার্স ও ইপসোস-এর সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের কাজের প্রতি জনসমর্থন কমে ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তার নেওয়া পদক্ষেপে খুশি নন অধিকাংশ মার্কিনি। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত শনিবার রাতে হোয়াইট হাউজ করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজে গোলাগুলির ঘটনা জনগণের ধারণায় কোনো পরিবর্তন আনবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, কেবল তেল বা গ্যাস নয়, খনিজ সম্পদ, সার, রাসায়নিক ও শস্যের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের প্রায় ১১ শতাংশই হরমজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে অনেক নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। সরবরাহ চেইন বিশেষজ্ঞ ডেভিড কফি বলেন, ‘জ্বালানি সরবরাহ পুনরায় শুরু হলেও সেই পণ্য বাজারে পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যাবে। দীর্ঘমেয়াদি এই সংকট কাটিয়ে ওঠা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক কোম্পানি বিকল্প খুঁজছে, কিন্তু জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই।’





