২০২৬ সালের মে মাসে ইউরোজোনে ভোক্তা পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইসিবি’র লক্ষ্যমাত্রা ছিল মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের মধ্যে রাখা। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় এবং গ্রীষ্ম ও শরৎকালেও দাম বাড়ার আশঙ্কায় ব্যাংকটি এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইসিবি’র প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দ বলেছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খরচ বাড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতি এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। তিনি বলেন, ‘মধ্যমেয়াদি মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির ওপর যুদ্ধের প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে জ্বালানির দামের স্থায়িত্ব এবং এর পরোক্ষ প্রভাবের ওপর।’
ইসিবি কর্মকর্তারা ইউরোজোনের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়ে ধরেছেন। ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ১ দশমিক ২ শতাংশ। আগে এই পূর্বাভাস ছিল যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৯ এবং ১ দশমিক ৩ শতাংশ। লাগার্দ সতর্ক করে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ দীর্ঘ সময় বিঘ্নিত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।’
এত দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির আশায় ইসিবি সুদহার বাড়াতে বিরতি দিয়েছিল। কিন্তু কোনো কার্যকর সমাধান না হওয়ায় এবং তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের ওপরে থাকায় ব্যাংকটি এই ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার। ব্যাংকটি মনে করছে, উচ্চমূল্যের তেল ও গ্যাসের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি ইতিমধ্যে বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।





