এ ঘটনায় আজ (শনিবার, ২৫ এপ্রিল) এমপির ব্যক্তিগত সহকারী আল আমিন বাদী হয়ে বিএনপির উপজেলা আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করে ৬৩ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৫০ থেকে ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। পরে পুলিশ ৯ জনকে আটক করে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনের এমপি মাছুম মোস্তফা পূর্বধলায় একটি মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখান থেকে ফেরার পথে সন্ধ্যার পর তিনি গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে পৌঁছান। এসময় এশার আজান দিলে তিনি পাশের একটি মসজিদে নামাজ পড়তে যান।
আরও জানা যায়, তেল বিক্রির নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর গাড়িতে তেল দেয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে হঠাৎ ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে আসা একদল যুবক মব সৃষ্টি করে হামলা চালায়। হামলাকারীরা এমপির গাড়ি ভাঙচুর করে এবং তাকে ধাওয়া দেয়।
তবে এমপি মসজিদে মুসল্লিদের সহায়তায় অবস্থান নেয়ায় কোনো শারীরিক আঘাত পাননি। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
ঘটনার পর রাতেই পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ইশতিয়াক বাবুসহ ৯ জনকে আটক করে।
আরও পড়ুন:
নেত্রকোণা জেলা পুলিশের মিডিয়া উইংয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম জানান, আটকদের মধ্যে ইশতিয়াক বাবু মামলার ২ নম্বর আসামি।
পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আইনের চোখে যারাই অপরাধী, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধী যে-ই হোক, এক চুলও ছাড় দেয়া হবে না।’
এমপি মাছুম মোস্তফা এ ঘটনাকে পরিকল্পিত উল্লেখ করে বলেন, ‘সংসদে দুই দলকে এক করে দেশের কাজে মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করছে সবাই। সেসময় বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদার যিনি আমার সাথে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন তিনি উস্কানি দিচ্ছেন। আমার এক নেতাকে ফেইসবুকে একটি পোস্টের জন্য থানায় ধরে এনেছে। আমি নিজে এসেও ছাড়াতে পারিনি। শুক্রবার দুপুরে জামায়াতের বিপক্ষে নানা কিছু বলে স্লোগান দিয়ে একটি মিছিল বের করেন যুগ্ম-আহ্বায়ক ইশতিয়াক বাবু। মিছিলে উত্তজনাপুর্ন স্লোগান ছিলো।’
তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠ সুন্দর দেশ গঠনে এসব করলে তো রাজনীতির পরিবেশ বিনষ্ট হবে।’





