রেলে পণ্য পরিবহনে বড় ধস: এক বছরে আয় কমেছে ৫৩ কোটি টাকা

রেলে পণ্য পরিবহন
রেলে পণ্য পরিবহন | ছবি: এখন টিভি
0

চট্টগ্রাম থেকে সারাদেশে রেলে পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বছর ব্যবধানে পণ্য পরিবহন কমেছে ৩৫ শতাংশ, রাজস্বেও নেমেছে ধস। একবছরে রেলের আয় কমেছে ৫৩ কোটি টাকারও বেশি। প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩টি ট্রেন পণ্য পরিবহন করলেও বর্তমানে করছে মাত্র ৩ থেকে ৪টি।

রেলের হিসেবে, পূর্বাঞ্চলের মোট ইঞ্জিনের প্রায় ৮০ শতাংশের আয়ুষ্কাল পার হয়ে গেছে। এসব ইঞ্জিন এতোটাই পুরনো যে, একবার বিকল হলে- বাজারে পার্টস মেলে না।

প্রতিবছর চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি রপ্তানি বাড়ছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। অথচ রেলের চিত্র উল্টো। ১৩টি ট্রেন পণ্য পরিবহনের স্থলে বর্তমানে করে মাত্র ৩ থেকে ৪টি।

এতে রাজস্ব আয়েও ধস নেমেছে। ২০২৪ সালে পণ্য পরিবহন খাতে আয় করেছে ১৫০ কোটি এবং ২০২৫ সালে কমে হয়েছে ৯৮ কোটি টাকা।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান বলেন, ‘রোজার আগে যেহেতু আমদানিটা বেশি হয় সেহেতু প্রতি বছর পোর্টে কনটেইনারে একটু জট হয়। সুতরাং কনটেইনার পণ্য কমে যাওয়া শুধুই যে একটা ক্রাইসিস তা আমি বলবো না তবে হ্যাঁ এটা একটা ইস্যু।’

আরও পড়ুন:

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন ইঞ্জিনের চাহিদা ১১৬টি, সরবরাহ হচ্ছে ৭৫-৭৭টি। একদিকে ৩০ শতাংশ ঘাটতি, অন্যদিকে পুরনো, গতিহীন ইঞ্জিনেই ভরসা।

যন্ত্র প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান বলেন, ‘যারা মেরামত করেন তাদের যেহেতু নিয়োগ দীর্ঘদিন ছিলো না দক্ষতারও কিছু ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে দেখা যাচ্ছে অনেকসময় প্রাপ্যতা আমাদের চাহিদামতো থাকে না।’

চট্টগ্রাম থেকে দেশের নানা প্রান্তে যায় ফার্নিচার, সামুদ্রিক মাছ, কাঠ, গাড়িসহ অনেক পণ্য। বেসরকারি খাতের চেয়ে সাশ্রয়ীর কারণে রেলের জনপ্রিয়তা থাকলেও অনিশ্চয়তা আর গতির কারণে দিনে দিনে আগ্রহ হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

পণ্য পরিবহণ কমার প্রভাব পড়েছে শ্রমিকদের উপরেও। আয় নেমেছে অর্ধেকে, সারাদিন বসে থেকেও কাজ না পেয়ে ফিরে যান কেউ কেউ। বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন অনেকে।

শ্রমিকরা জানান, আগে অল্প কিছু টাকা পেলেও এখন সেটাও পাচ্ছেন না।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রেলের পণ্য পরিবহন খাত লাভজনক। অথচ অব্যবস্থাপনা আর নীতি নির্ধারণে দুর্বলতার কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে এ খাত।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, ‘কোনো সরকারই রেলওয়েকে লজিস্টিক একটা গুরুত্বপূর্ণ হাব হতে পারে সে ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় নি। ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে রেলওয়েকে একটা একটা গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।’

ইএ