ইরানের গোপন পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রে আসে দুই দশকেরও বেশি সময় আগে। তখন থেকেই ইরান জোর দিয়ে বলে আসছে, তাদের উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ এবং অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গণ-বিধ্বংসী এই অস্ত্র নিষিদ্ধ করে একটি ফতোয়াও জারি করেছিলেন। এমনকি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলার পরও একই বক্তব্য অটল তেহরান।
তবে প্রায় এক মাসের যুদ্ধে শীর্ষ নেতাদের হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের পর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দাবি জোরালো হচ্ছে ইরানের। সাধারণ মানুষের মতামতও সেই দিকে এগোচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খামেনির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পরমাণুর নিষিদ্ধ ফতোয়া এখন বিলুপ্ত।
ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে করা ইরানের পারমাণবিক চুক্তি থেকে ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম সরে আসার পর থেকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের দিকে মনোযোগ বাড়ায় ইরান। পরবর্তীতে এই কর্মসূচি ধীরে ধীরে এগিয়ে নেয়ার অনুমতি দেন তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা। এছাড়া, গেল জুনে দেশটির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর পারমাণবিক নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছিল ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
আরও পড়ুন:
ইরান এখনো প্রকাশ্যে পরমাণু ইস্যুর বিষয় নিয়ে মত দেয়নি। তাদের কাছে এখন পর্যন্ত ৪০০ কিলোগ্রামের বেশি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। তবে খামেনি পুত্র নতুন নেতা মোজতবা খামেনি এখনো পরমাণু বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করেননি। এ বিষয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, পারমাণবিক ইস্যুতে আগের নীতিগুলো খুব একটা পরিবর্তন হবে না।
তবে ইরানের পারমাণবিক নীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে জল্পনা-কল্পনা বাড়ছেই। ইরানের নতুন নেতৃত্ব পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনে ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাপের সম্মুখীন হচ্ছে বলেও মত তাদের। এই যুদ্ধের কারণে ইরান বিশ্ব পরাশক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এতদিন মার্কিন হামলার আশঙ্কায় এই কর্মসূচির বিষয়ে সংযত ছিল ইরান। এবার সেই বাধাও কেটে গেছে।
এদিকে, ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র তৈরি করে, তাহলে আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অজুহাতে একই পথে হাঁটবে। ২০১৮ সালে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক বোমা তৈরি করে, তাহলে রিয়াদও যত দ্রুত সম্ভব তা তৈরি করবে। এতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির শঙ্কাও বাড়বে বিশ্বজুড়ে।





