ইরান যুদ্ধে অন্যসব ক্ষয়ক্ষতি ছাপিয়ে সবার মনোযোগ যেন এখন হরমুজ প্রণালির দিকে। বিশ্বের মোট তেলের এক পঞ্চমাংশের সরবাহকারী রুটটি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জালানির বাজারে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম। জ্বালানি সংকটে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ।
তবে শুধু তেল নয়, হরমুজ স্থবিরের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে খাদ্য, ওষুধের মতো জরুরি পণ্যেও। কেননা পারস্য উপসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে সার, গ্যাসসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী বিশ্ব বাজারে সরবরাহ করা হয়।
আরও পড়ুন:
জাতিসংঘ বলছে, বিশ্বের মোট সারের এক তৃতীয়াংশ হরমুজ প্রণালি নিয়ে পারাপার হয়। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এগুলোর সরবরাহ পথ। বিশ্লেষকদের শঙ্কা, এগুলোর ঘাটতি ব্যাহত করবে কৃষি উৎপাদন। কেননা মার্চ-এপ্রিল মাস বীজ বপনের সময়। এসময় সারের সংকট বাড়াতে পারে কৃষি পণ্যের দাম। কিয়েল ইনস্টিটিউটের শঙ্কা, হরমুজ পুরোপুরি বন্ধ হলে বিশ্বব্যাপী গ্মের দাম ৪ দশমিক ২ শতাংশ ও ফলমূলের দাম ৫ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে।
এছাড়া আংশিক হরমুজ বন্ধের প্রভাব পড়েছে হিলিয়াম পরিবহনেও। বিশ্বের মোট হিলিয়ামের এক- তৃতীয়াংশ এই জলপথের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে পৌঁছায়। এ গুরুত্বপূর্ণ উপাদানটি যানবাহন, কম্পিউটার, স্মার্টফোন এমনকি এমআরআই করার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।
ওষুধ শিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে হরমুজ প্রণালির স্থবিরতা। ওষুধ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ দুটি উপাদান হলো ইথানল ও মিথানল। সৌদি আরব, কাতার, ওমান , আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে এই উপাদামগুলো বিশ্বে রপ্তানি করে। বিশ্লেষকদের শঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘায়িত ও হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে বাড়ছে ওষুধের দাম।
যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন হরমুজ পাড়ি দিয়ে শতাধিক জাহাজ। তবে প্রায় এক মাসের সংঘাতে নৌপথটি দিয়ে জাহাজ চলাচল তলানিতে ঠেকেছে।





