যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন খাতে

মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন খাত
মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন খাত | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন খাতে। পর্যটন খাতে গেল ২০ দিনে ক্ষতি ছাড়িয়েছে ১২ বিলিয়ন ডলার। ফ্লাইট বাতিল ও নিরাপত্তার অনিশ্চিয়তায় ইউরোপের পর্যটকরা ঝুঁকছেন স্পেনে। ভ্রমণ তথ্য সংস্থা ম্যাব্রিয়ান বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তায় স্পেনের বিখ্যাত সমুদ্রসৈকতগুলোতে বেড়েছে বিদেশি পর্যটকের ঢল।

হামলা-পাল্টা হামলা, মৃত্যু। ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের ডামাডোলো মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিদিনই বাড়ছে উত্তেজনা।

চার সপ্তাহে গড়ানো এই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের বাসিন্দারের মধ্যে এখনো বিরাজ করছে আতঙ্ক। সার্বিকভাবে সব জায়গায় যুদ্ধের আচঁ লাগলেও এবার প্রভাব পড়েছে দেশগুলোর পর্যটনখাতে। চলমান সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো উপসাগরীয় দেশগুলো। ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ ও পর্যটন কেন্দ্রগুলো স্থবির হয়ে পড়ায় এ দেশগুলোর অর্থনীতিতে লেগেছে বড় ধাক্কা।

ভ্রমণ তথ্য সংস্থা ম্যাব্রিয়ান বলছে, উৎসব ও গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে উপসাগরীয় দেশগুলো জনপ্রিয় হলেও এবার চলমান পরিস্থিতিতে বিকল্প গন্তব্য বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন পর্যটকরা। ম্যাব্রিয়ানের মুখপাত্র কার্লোস সেন্দ্রা জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের যুদ্ধের কারণে, ইস্টারের ছুটির ভ্রমণ পরিকল্পনাকে নতুন রূপ দিতে শুরু করেছে ভ্রমণকারীরা। নিরাপত্তা ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়ন করায় অনেকেই পছন্দের গন্তব্য হিসেবে বেছে নিচ্ছেন স্পেনকে।

আরও পড়ুন:

ভ্রমণ আয়োজকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘মানুষের চাহিদা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হচ্ছে, এটি ফ্লাইটের মূল্য, আবাসন খরচ এবং পরিস্থিতি কীভাবে এগোচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করছে। পর্যটকরা উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে স্পেনের দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে। যদিও অবকাশ যাপনে তাদের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যস্থলগুলো প্রধান আকর্ষণ ছিলো।’

ভ্রমণ সংস্থাটির তথ্য সত্যতা মিললেও বাস্তব চিত্রেই। পর্যটকদের আগমনে কানায় কানায় পূর্ণ স্পেনের বিভিন্ন সমুদ্র সৈকত এবং শহরের বিনোদন কেন্দ্র। সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে ঢেউয়ের গর্জন শোনার পাশাপাশি অনেকেই আবার গা ভাসাচ্ছেন নোনা জলে। চেয়ারে অনেকেই উপভোগে ব্যস্ত সূর্য সূর্য স্মানে। হোটেল মোটেল রেস্তোরায়ঁ বেড়েছে বেচাকেনা।

ম্যাব্রিয়ানের মুখপাত্র কার্লোস সেন্দ্রার মতে, পর্যটন শিল্পের আরও এগিয়ে যাবে স্পেন। পর্যটকদের তালিকায় স্পেনের পরেই রয়েছে ইতালি, গ্রিস, এবং মরক্কো।

আরও পড়ুন:

যদিও ইউরোপীয় বিমান সংস্থাগুলোর এরইমধ্যে সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে, বাড়বে বিমান ভাড়া ও ফ্লাইটের খরচ। যার ফলে ভ্রমণেও লাগবে বাড়তি অর্থ।

ভ্রমণ আয়োজকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘পর্যটকদের জায়গা দেয়ার জন্য স্পেন, ইতালি এবং গ্রিসের সক্ষমতা রয়েছে। ইস্টারের ছুটির জন্য ভ্রমণে চাহিদা অনেক বেশি। তখন অনেক চাপ থাকে পর্যটকদের চাহিদা বৃদ্ধি সামাল দেয়াও কষ্টসাধ্য। পর্যটনের ভরা মৌসুমে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি কী হবে, তা আমাদের এখনই বিবেচনা করতে হবে।’

উচ্চগতির এভিই ট্রেন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও আধুনিক বিমানবন্দরসহ বিশ্বমানের অবকাঠামোর কারণে ইউরোপের দেশগুলো থেকে প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি পর্যটক আসেন স্পেনে। এবার ইরান যুদ্ধে ফলে দেশটিতেও বেড়েছে জ্বালানির দাম। ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে স্পেনের পরিবহন খরচ পাশাপাশি উপকূলীয় পর্যটন এলাকায় বেড়েছে ভ্রমণ ব্যয়।

এসএস