চৈত্র এখন রিক্ত। ডালপালা শুষ্ক। আকাশজুড়ে মেঘের আনাগোনা। সূর্যের একফালি আলো যেন এখানে পথ হারানো পথিক। এক বুক মানুষ নিয়ে নগরীর কাঁধভারি অস্বস্তি তো নিত্যদিনের গল্প। যেখানে মানুষের প্রশ্বাসই অনিশ্চিত, সেখানে শহরের অবসর সময় আর কোথায়?
ঈদের টানে নগরী একা হচ্ছে। চৈত্র দিনে ঈদ। ঢাকা ক্রমশ নিঃসঙ্গ, শেকলমুক্ত। রুটিরুজির তাড়া নেই, নেই চিরচেনা হাঁকডাক। শহর যেন দীর্ঘদিন পর প্রাণ ভরে শ্বাস নিচ্ছে। রাজপথ জুড়ে নিস্তব্ধতা।
এই নীরবতার ভেতরেই ফিরে আসে আরোগ্যের খোঁজ। অনেকটা দৃষ্টিহীন চোখেও সবুজ অরণ্যের স্বপ্ন দেখার মতো। তাতে কী, পেছনেই যে অপেক্ষা করছে নতুন সবুজ।
কংক্রিটের বুক চিরে শুরু হয়েছে বিদ্রোহ। কচি কুঁড়িতে জীবনের জয়গান। শুকনো ডালপালা ছেয়ে গেছে নতুন পাতার ইশারায়। ফুটপাথের কৃত্রিম ফুল সরিয়ে এবার চোখে পড়ে পাতার বাহার।
আরও পড়ুন:
কে জানে, বনসাই হয়ে থাকা শহরটাই বুঝি হঠাৎ নিজের শেকড়কে চিনে নিল। যান্ত্রিকতার ভিড় সরতেই ফিরে এসেছে পাখির ডাক, কাঠবেড়ালির ছুটোছুটি, আর সুযোগ খোঁজা টিয়ার মতো হালকা আনন্দে ভরে উঠেছে ফাঁকা ঢাকা।
শুভ বার্তা এসেছে আবহাওয়া অফিস থেকেও। ঈদের দিনও ভেজা ঘাসের গন্ধ নিয়ে উৎসবকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত আকাশ। ধুলো ধুয়ে শহরকে স্বস্তি দিতে তৈরি চারপাশ।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, ‘ঈদে দিন ঢাকাসহ দেশের ভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার উত্তরে যে বিভাগগুলো রয়েছে যেমন রংপুর,রাজশাহী,ময়মনসিংহ, সিলেট এসব বিভাগের কিছু জায়গায় এবং খুলনা চট্টগ্রাম বরিশাল বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ী দমাকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বর্জসহ বৃষ্টি হতে পারে।’
ছুটি ফুরিয়ে শহর আবার ব্যস্ত হবে। ভিড় ফিরবে, ফিরবে চেনা ধুলোর গন্ধ। তবু এই কটা দিন ঢাকার আত্মা ফিরে পাওয়া- জরা ঝেড়ে আজ সে বলছে নবজন্মের গল্প। পাতাঝরা শেষে এই সবুজই হোক আগামীর স্বস্তি।





