১৯৭৭ সাল, সরকার হাতে নেয় খাল খনন কর্মসূচির। দেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষির উৎপাদন বাড়াতে যুগান্তকারী এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
কর্মসূচির লক্ষ্য ছিলো বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা, শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে সেচব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং যোগাযোগ ও পানিব্যবস্থা গড়ে তুলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দেশের মডেল তৈরি করা।
খাল খনন কর্মসূচি ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে মোট ২৭৯টি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় দেড় হাজার খাল খনন করা হয়। যার দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল। এর মাধ্যমে প্রায় ১৬ লাখ একর জমির অতিরিক্ত সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছিল, যা খাদ্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
৪৫ বছর পর, নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী আবারও সেই খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিএনপি সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ কর্মসূচির আওতায় পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে।
প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় খাল খননের মাধ্যমে ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। প্রথম পর্যায়ের ১৮০ দিনে সম্পন্ন করা হবে ১২০০ কিলোমিটার।
আরও পড়ুন:
কর্মসূচিটি অতীতের খাল খনন কর্মসূচির আদলে পুনর্জীবিত করা হচ্ছে, যা জনমুখী ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের ক্লাইমেট চেঞ্জ যে ইস্যু আছে, আবহাওয়ার ইস্যু আছে এগুলো আমাদের এসডিজির শর্তগুলো মিট করবে। তাই এখানে অর্থনৈতিক বিষয় আছে, সামাজিক ও দারিদ্র বিমোচনের বিষয় আছে। এটি গ্রিন বাংলাদেশ কমিটমেন্টের মধ্যে পড়ে।’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, তারেক রহমানের এ উদ্যোগ সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন আন্দোলনেরই আধুনিক সংস্করণ। যেখানে সাধারণ মানুষের স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে এই উদ্যোগ।
তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের ইলেকশন কমিটমেন্ট ছিলো। খাল খননের মাধ্যমে চলাচল, মৎস্য চাষে উন্নতি হবে। এটি একটি সার্বিক প্রজেক্ট। এটির অনেকগুলো দিক রয়েছে। ট্রান্সপোর্টেশন থেকে শুরু করে, অনেক বিষয় কভার করবে।’
খাল খনন কর্মসূচিটি মূলত পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এছাড়া, সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন কৃষি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।





