চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক ‘নিষেধাজ্ঞা আদেশে’ জানিয়েছে, হেংলি পেট্রোকেমিক্যালসহ পাঁচটি শোধনাগারের ওপর ওয়াশিংটন যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, তা স্বীকৃত বা কার্যকর হবে না। বেইজিংয়ের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং চীনের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়ন স্বার্থের পরিপন্থী।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল ইরান থেকে তেল কিনে দেশটির সামরিক বাহিনীর জন্য বিপুল অর্থ জোগাড় করছে। উল্লেখ্য, ইরান বর্তমানে সবচেয়ে বেশি তেল রপ্তানি করে চীনে। ২০২৫ সালে ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশই গেছে চীনা ক্রেতাদের কাছে।
আরও পড়ুন:
২০২১ সালে প্রণীত এই আইন অনুযায়ী, কোনো বিদেশি দেশ যদি চীনা কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর অযৌক্তিক বিধিনিষেধ আরোপ করে, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ৩০ দিনের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করতে হয়। এরপর মন্ত্রণালয় খতিয়ে দেখে পাল্টা আদেশ জারি করে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি নিষেধাজ্ঞা মানতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে, তবে তারা আদালতে ক্ষতিপূরণ মামলাও করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন চীন কেবল কূটনৈতিকভাবে প্রতিবাদ জানালেও এখন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে। এতে করে বিশ্বজুড়ে ব্যবসা করা কোম্পানিগুলো উভয় সংকটে পড়তে পারে। একদিকে মার্কিন ডলার বা বাজারের ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত অমান্য করা কঠিন; অন্যদিকে চীনকেন্দ্রিক ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বেইজিংয়ের আইন অমান্য করা ঝুঁকিপূর্ণ হবে।
ইউরেশিয়া গ্রুপের চীন বিশ্লেষক ডমিনিক চিউ বলেন, ‘বেইজিং এখন অনেক বেশি আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে কোম্পানিগুলোকে হয়তো যুক্তরাষ্ট্র অথবা চীনের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেয়ার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।’





