২০২৪ সালে বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে কিরগিজস্তান যান গাজীপুরের ফরহাদ হোসেন। দালালের হাতে তুলে দেন জমি বিক্রির চার লাখ টাকা। গিয়ে বুঝতে পারেন প্রতারিত হয়েছেন। কাগজে-কলমে কোম্পানি থাকলেও বিমানবন্দরে নিতে আসেনি কেউই। ভেঙে না পড়ে নিজেই কাজ জুটিয়ে নেন। তবে কর্মস্থলে এক দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হন তিনি।
চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাওয়া ফরহাদকে দেশে ফেরাতে গত বছর সরকারের কাছে চিঠি দেন তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার। বিএমইটি কার্ড থাকার পরও সেই চিঠি ঘুরছে মন্ত্রণালয়ের টেবিলে টেবিলে; কখনও প্রবাসী কল্যাণ কখনও পররাষ্ট্রের দপ্তরে। তবে ফেরা হয়নি কিরগিজস্তানে মানবেতর জীবনযাপন করা ফরহাদের।
আরও পড়ুন:
ফরহাদ বলেন, ‘আমি একবেলা খাই আরেক বেলা খেতে পারি না। যদি আমাকে দয়া করে একটু নিতেন, তাহলে আমিও খুশি হতাম আর আল্লাহ ও খুশি হতো।’
মধ্য এশিয়ার এ দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশের টাকার তফাৎ মাত্র ৪০ পয়সা। তারপরও দেশটিতে শ্রমিক পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ। বিএমইটির তথ্য মতে, গত বছর দেশটিতে গেছেন ৬ হাজার ৬৫০ জন বাংলাদেশি। কর্মী পাঠানোর অনুমতি দিলেও তাদের দায়িত্ব নেয়ার জন্য নেই দূতাবাস বা মিশন। অসুস্থ বা মৃত্যু হলেও পাশে দাঁড়াতে নেই সরকারি কোনো ব্যবস্থা।
প্রবাসীরা জানান, এখানে আমাদের প্রায় সময় সমস্যায় পরতে হয় তাদের। তা ছাড়া পাসপোর্ট জটিলতার কারণে পাশের দেশগুলোয় যাওয়া লাগে।
প্রবাসীরা বলছেন কিরগিজস্তানের প্রায় ১৪ হাজার বাংলাদেশি পাসপোর্ট বা কনস্যুলার সেবা নিতে প্রতিবেশী উজবেকিস্তানের বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বারস্থ হোন। তবে এ সেবাও সবসময় মেলে না।
এ ব্যাপারে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণলায়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্যামেরায় কথা বলতে রাজি হননি।





