ঈদ উপলক্ষে নতুন নোট; কখন-কোথায় পাওয়া যাবে, কোন বান্ডিল কত?

ঈদের নতুন নোট ২০২৬
ঈদের নতুন নোট ২০২৬ | ছবি: এখন টিভি
0

পবিত্র ঈদুল ফিতর (Eid-ul-Fitr) আসতে এখনো বেশ কিছুটা সময় বাকি থাকলেও রাজধানীর মতিঝিল ও গুলিস্তানের ফুটপাতে জমে উঠেছে নতুন নোটের ব্যবসা (New Note Business)। ঈদ সালামি (Eid Salami), যাকাত ও ফিতরা বিতরণের জন্য নতুন চকচকে নোটের চাহিদা বরাবরই বেশি থাকে। তবে এবার বাজারে নতুন নোটের সংকট থাকায় বিক্রেতারা আকাশচুম্বী দাম হাঁকাচ্ছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

একনজরে বাজারে নতুন নোটের অতিরিক্ত দাম (Table of Extra Charges)

নোটের মান (Note Value) বান্ডিল প্রতি বাড়তি দাম (Extra Charge)
১০ টাকা (জুলাই গ্রাফিতি) ৫৫০ - ৭০০ টাকা
২০ টাকা ৫০০ টাকা
৫০, ১০০ ও ৫০০ টাকা ৫০০ - ৬০০ টাকা
২ ও ৫ টাকা ২০০ - ৩০০ টাকা

আরও পড়ুন:

বাজারে নতুন নোটের আকাশচুম্বী দাম (Price Hike of New Notes)

গুলিস্তান ও মতিঝিলের অস্থায়ী বাজারগুলোতে দেখা গেছে, ১০ টাকার প্রতি বান্ডিলের (১০০টি নোট) জন্য বাড়তি ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। অর্থাৎ ১০০০ টাকার নোটের বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ১৫৫০ থেকে ১৭০০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, জুলাইয়ের গ্রাফিতি (July Graffiti) সংবলিত ১০ টাকার নোটের বিশেষ চাহিদার কারণে দাম বেড়েছে।

অন্যান্য নোটের দরদাম:

  • ২০ টাকার বান্ডিল: বাড়তি ৫০০ টাকা।
  • ৫০, ১০০ ও ৫০০ টাকার বান্ডিল: বাড়তি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।
  • ২ ও ৫ টাকার বান্ডিল: বাড়তি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।

নতুন টাকা সংগ্রহের প্রধান লোকেশন ও ঠিকানা

এলাকা (Area) নির্দিষ্ট স্থান (Location Details) প্রাপ্তির ধরন (Availability Type)
মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংকের উত্তর পাশের ফুটপাত ও সেনা কল্যাণ ভবনের সামনে অস্থায়ী খোলা বাজার (চড়া দামে বিক্রি)
গুলিস্তান গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এবং পাতাল মার্কেটের দক্ষিণ-পশ্চিম মোড়ে খুচরা বিক্রেতা (সারা বছর পাওয়া যায়)
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সংলগ্ন ফুটপাত ও মোড়সমূহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী (অস্থায়ী দোকান)
মিরপুর মিরপুর ১০ ও ১২ নম্বর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নির্দিষ্ট এলাকা অস্থায়ী (ঈদের আগে ভিড় বাড়ে)
বাংলাদেশ ব্যাংক মতিঝিল প্রধান কার্যালয় ও শাখা অফিসসমূহ (চট্টগ্রাম, সিলেট ইত্যাদি) শুধুমাত্র পুরাতন বা ছেঁড়া টাকা বদল

আরও পড়ুন:

কেন দাম বাড়ছে? (Reasons for Price Hike)

বিক্রেতাদের দাবি, বাজারে নতুন নোটের সরবরাহ (Supply of New Notes) কম থাকায় তাদেরও চড়া দামে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, কাগজ সরবরাহে সমস্যার কারণে নতুন নোট ছাপানোর গতি কিছুটা কমেছে। এছাড়া সরকারের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হলো ক্যাশলেস বাংলাদেশ (Cashless Bangladesh) গড়ে তোলা, যার ফলে ডিজিটাল লেনদেনকে (Digital Transaction) উৎসাহিত করা হচ্ছে।

কোন নোটের চাহিদা বেশি? (Most Demanded Notes)

জাকাত-ফিতরা দেওয়ার জন্য ক্রেতারা সাধারণত ৫০, ১০০ ও ২০০ টাকার নোট বেশি খোঁজেন। তবে ঈদ সালামির জন্য ২, ৫, ১০ ও ২০ টাকার নোটের কদর সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে জুলাই গ্রাফিতিযুক্ত ১০ টাকার নতুন নোট সংগ্রহের জন্য মানুষ ভিড় করছেন।

ঈদে নতুন নোট কোথায় পাওয়া যাবে |ছবি: এখন টিভি

সতর্কবার্তা: বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে যে তারা এবার কোনো নতুন নোট সরবরাহ করবে না। তাই খোলা বাজার থেকে টাকা কেনার সময় প্রতারণা ও জাল নোট (Fake Notes) সম্পর্কে সতর্ক থাকুন।

ঈদের নতুন নোটের বাজারদর ও চাহিদার চিত্র (২০২৬)

নোটের মান (Denomination) বান্ডিল প্রতি বাড়তি দাম (Extra Cost) চাহিদার ধরন (Demand Status)
১০ টাকা ৫৫০ - ৭০০ টাকা সর্বোচ্চ (গ্রাফিতি নোটের কারণে)
২০ টাকা ৫০০ টাকা খুব বেশি (সালামির জন্য)
৫০ টাকা ৫০০ - ৬০০ টাকা বেশি (জাকাত ও ফিতরার জন্য)
১০০ টাকা ৫০০ - ৬০০ টাকা বেশি (জাকাত ও ফিতরার জন্য)
২০০ টাকা ২০০ - ৩০০ টাকা মাঝারি
৫০০ টাকা ৫০০ - ৬০০ টাকা মাঝারি
৫ টাকা ২০০ - ৩০০ টাকা তুলনামূলক কম
২ টাকা ৩০০ টাকা মাঝারি

একনজরে বাংলাদেশের কাগুজে নোটের ইতিহাস

নোটের মান বাজারে আসার তারিখ (ইস্যু) নোটের ধরন (Type)
১, ৫, ১০ ও ১০০ টাকা ৪ মার্চ ১৯৭২ প্রথম মুদ্রা
৫০ টাকা ১ মার্চ ১৯৭৬ ব্যাংক নোট
৫০০ টাকা ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৬ ব্যাংক নোট
২০ টাকা ২০ আগস্ট ১৯৭৯ ব্যাংক নোট
২ টাকা ২৯ ডিসেম্বর ১৯৮৮ সরকারি নোট
১০০০ টাকা ২৭ অক্টোবর ২০০৮ ব্যাংক নোট
২০০ টাকা ১৮ মার্চ ২০২০ ব্যাংক নোট

এসআর