মাত্র ২৭ দিনের ব্যবধানে নয়টি ভূমিকম্প। আর ১৩ মাসে ৩২টি। কম সময়ের এতগুলো ভূমিকম্পে আতঙ্কিত অনেকেই।
গেল কয়েক মাসে ভূমিকম্পের কম ঝুঁকির অঞ্চল হিসেবে পরিচিত দেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলেও ভূমিকম্প বেড়ে গেছে। সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, ঢাকা ও আশপাশের এলাকাতেও নিয়মিত বিরতিতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
অপরিকল্পিত নগরায়ন, দুর্বল নির্মাণ ব্যবস্থা এবং ঘনবসতির কারণে ঢাকা বড় ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শহরগুলোর একটি। বড় ভূমিকম্প হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকায় মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প চার থেকে ছয় শতাংশ ভবন ধসে যেতে পারে। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ ভবন।
আরও পড়ুন:
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ পুরো অঞ্চলটাই ভূমিকম্প ঝুঁকিতে আছে। কোথাও হয়তো কম, কোথাও হয়তো বেশি। আমাদের অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আছে। সমীক্ষা করতে হবে, পরীক্ষা করতে হবে যে স্ট্রাকচারগুলো নিয়ে সন্দেহ আছে। আমরা যে ভূমিকম্পের কথা বলছি বা আমাদের বিল্ডিং কোড যে ভূমিকম্পের কথা বলছে এটুকুর জন্য যে সহনশীল কি না।’
তবে ছোট ছোট ভূমিকম্প নিয়ে বিশেষজ্ঞদের আলাদা মতও আছে। কেউ কেউ বলছেন বারবার ভূমিকম্পে শক্তি কমছে, এতে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা ক্ষীণ হচ্ছে। তবে সতর্ক থাকার পরামর্শ তাদের।
আরও পড়ুন:
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. তাহমীদ মালিক আল-হুসাইনী বলেন, ‘এই ভূমিকম্পগুলো ছোট ছোট হয়ে যাওয়া মানে হলো যে এনার্জিটা ওখানে জমা হয়ে আছে, সেটা আস্তে আস্তে একটু একটু রিলিজ হচ্ছে। একটু একটু রিলিজ হওয়া মানে সে ফ্রি হচ্ছে। তার মানে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনাটা কমে যাচ্ছে। আমরা খনই কোনো একটা ভবন ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট করতে যাই, তখন দেখা যায় প্রতিটি ভবনের ফাউন্ডেশন এবং স্ট্রাকচার,এই দুই জায়গায় সমস্যা থাকেই।’
ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়ার প্রযুক্তি আবিষ্কার হয়নি। তাই পূর্ব সতর্কতার অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ভূমিকম্প প্রতিরোধী ব্যবস্থার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।





